দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চলতি বছরের জুলাই ও গত বছরের আগস্ট মাসে দুই দফায় সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় এসেছিলেন বাইডেনের কথিত উপদেষ্টা মিয়া জাহিদুল ইসলাম আরেফী। সে সময় তিনি নিজেকে জো বাইডেনের উপদেষ্টা ও ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কমিটির সদস্য পরিচয় দিয়ে প্রশাসনের প্রটোকল দাবি করেছিলেন।
ওই সময় তিনি উল্লাপাড়া ও সলঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে একটি রেস্টুরেন্টে চা খান। তিনি সে সময় উল্লাপাড়ায় ডাকবাংলোতেও থেকেছেন।
সেখানে ফ্যাসিলিটি কম থাকায় তা নিয়ে রাগারাগিও করেছেন এবং স্থানীয় এমপির কাছেও অভিযোগ করে গেছেন। ওই সময় তিনি বিএনপির সাবেক এমপি এম আকবর আলীর গাড়িতে চলাচল করতেন বলে জানা গেছে।
তখন তার সঙ্গে তার খালাতো ভগ্নিপতি উল্লাপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল বাতেন হিরু পরিবারসহ সঙ্গ দিয়েছেন।
মানিকদিয়া গ্রামের লোকজন জানান, আরেফী পাঁচ-সাত মাস আগে এসে একটি মক্তব চালু করে গেছেন। তার জন্ম পাবনায়। তার বাবা-দাদার জন্ম মানিকদিয়া গ্রামে। আরেফীর বাবা দেশের বিভিন্ন জায়গায় চাকরি করতেন। সেই কারণে এখানে তাদের খুব একটা যাতায়াত নেই। তিনি মাঝে মধ্যে এসে দান-খয়রাত করেন। তার চাচারা মারা গেছেন। চাচাতো ভাইয়েরা রয়েছেন।
উল্লাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, গত বছর আগস্ট মাসে তিনি এসেছিলেন। উল্লাপাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল বাতেন হিরু আমাকে বলেছিলেন যে তার স্ত্রীর আপন খালাতো ভাই এসেছেন, এলাকা চিনবেন, কোনো সমস্যা হলে একটু দেখবেন। আরেফী এ এলাকায় যে স্কুলে পড়তেন, সেটা দেখতে এসেছেন। পরে সলঙ্গা থানার ওসি আর আমি উল্লাপাড়ায় রেস্টুরেন্টে চা খেতে যাই। বাতেন ভাই তখন বলেন, আরেফী ভাই কিন্তু বড় পদে আছেন। তখনই আমার সন্দেহ হয়। বড় পদে যদি জো বাইডেনের কিছু হন, তাহলে তো সরকারি প্রটোকল পাবেন।
ওসি আরও বলেন, এরপর আবার এসেছিলেন। আমি এসপি স্যারকে রিপোর্ট করেছিলাম, স্যার তার আচরণের মধ্যে ত্রুটি আছে। তারপর এমপিকে বলেছিলাম, তখন এমপি সাহেব তাকে ডেকে নিয়েছিলেন। যখন এখানে এসে ডাকবাংলোয় ওঠেন, তখন সেখানে তার সঙ্গে তিন-চারজন দেখা করতে এসেছিলেন। গোপন সংবাদে জানতে পারি, তারা বিএনপির সাবেক এমপি আকবর আলীর লোক। বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে এসপি স্যার ও এমপি সাহেবকে জানাই। তখন এমপি সাহেব তার সঙ্গে কথা বলেন। ওই সময় তিনি নিজেকে ডেমোক্রেটিক পার্টির মেম্বার ও জো বাইডেনের উপদেষ্টা হিসেবে পরিচয় দেন। তখন আমার কাছে তা মনে হয়নি। পরে বুঝতে পারি, আসলে তিনি তার বাবা-দাদার জমি উদ্ধার করতে এসেছেন।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য তানভীর ইমাম বলেন, আমি তাকে ডাকিনি, তিনিই আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। আমি শুনলাম, তিনি পুলিশ প্রটোকল চেয়েছেন, সার্কিট হাউসে থাকতে চেয়েছেন। সার্কিট হাউসে পয়সা দিয়ে থাকার সিস্টেম আছে। তাকে থাকার সুযোগ দেওয়া হয়। সেখানে থেকে তিনি চিল্লাচিল্লি করেছেন, ফ্যাসিলিটি ভালো না।
এইউ