দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার তালেবেরহাটের সরকারি খাস জায়গা অবৈধভাবে দখল করে পাকা বিল্ডিং দোকান ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে জহির উদ্দিন চক্রের বিরুদ্ধে। তালেবেরহাটের মুদি দোকানি ইন্দ্রিস আলী এই বিষয়ে নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করে বিচার থেকে বঞ্চিতসহ পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
লিখিত অভিযোগ ও সরেজমিনে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়নের তালেবেরহাট এলাকার তালেব উদ্দিন গত ৯ সেপ্টেম্বর ১৯৯৬ সালে তার নিজ নামে হাট বাস্তবায়ন করতে সরকারের নামে সাড়ে ৪২ শতক জমি লিখে দেয় এবং সেই থেকে তালেবেরহাটে স্থানীয়রা অস্থায়ী দোকান ঘর তুলে ব্যবসা করে আসছেন।
তালেবেরহাটের সরকারি খাস জমিতে হতদরিদ্র ইন্দ্রিস আলী একটি মুদি দোকান দিয়ে কোনোমতে পরিবার নিয়ে জীবন নির্বাহ করছেন। বর্তমানে তালেবেরহাট একটি গুরুত্বপূর্ণ হাট হিসেবে সফলতা অর্জন করে। তালেবেরহাট এলাকার জহির উদ্দিন চক্ররা তাদের স্বার্থ হাসিলে কিছুদিন থেকে ইন্দ্রিস আলীর মুদি দোকান উচ্ছেদের পায়তারা করাসহ বিভিন্ন ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছেন। এরই প্রেক্ষিতে গত ২২ আগস্ট আনুমানিক রাত ৮টায় জহির উদ্দিনের নেতৃত্বে তমিজ উদ্দিন, আলতাফ হোসেন, ইয়াকুব আলী, ইব্রাহিম আলী, আইয়ুব আলী ও আব্দুল কাদের গংরা অস্ত্রেসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ইন্দ্রিস আলীকে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে তার মুদি দোকানে বাঁশের ঘের দেয়।
এরপর হতদরিদ্র ইন্দ্রিস আলী তার মুদি দোকান করতে না পারায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে থাকে। এ বিষয়ে এলাকায় একাধিকবার বৈঠক হলেও বিচার মানেনি জহির উদ্দিন চক্র। মুদি দোকানি ইন্দ্রিস আলী গত ১১সেপ্টেম্বর নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করে বিচার থেকে বঞ্চিতসহ পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
অপরদিকে জহির উদ্দিন চক্ররা ক্ষমতা দেখিয়ে গত ২৩ আগস্ট থেকে সরকারের খাস জায়গায় একটি নতুন বিল্ডিং দোকান ঘর নির্মাণ করছেন। অভিযোগ রয়েছে জহির উদ্দিন গংরা সন্তোষপুর ইউনিয়নের তহশিলদারকে ম্যানেজ করে তার সহযোগিতায় তালেবেরহাটের সরকারের খাস জমিতে পাকা বিল্ডিং ঘর নির্মাণ শেষ করেছেন।
তালেবেরহাট এলাকার আফতার হোসেন, বাচ্চু মিয়া, গোলজার হোসেনসহ অনেকে বলেন, তালেবেরহাটের সরকারের খাস জমিতে হতদরিদ্র ইন্দ্রিস আলী একটি মুদি দোকান দিয়ে পরিবার চালাচ্ছেন। তালেবেরহাট এলাকার জহির উদ্দিন গংরা গত ২২ আগস্ট রাত ৮টায় ইদ্রিস আলীকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেখিয়ে তার মুদি দোকান বাঁশের ঘের দেয় এবং পরবর্তীতে ভেঙে দেয়। ফলে হতদরিদ্র ইদ্রিস আলী তার মুদি দোকান করতে না পারায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। জহির উদ্দিন গংরা সন্তোষপুর ইউনিয়নের তহশিলদারের নিয়ন্ত্রণে সরকারের খাস জায়গায় একটি নতুন বিল্ডিং দোকান ঘর নির্মাণ শেষ করেছেন। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।
সরকারের খাস জমিতে ঘর নির্মাণকারী জহির উদ্দিনের সঙ্গে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
অভিযোগকারী ইদ্রিস আলী বলেন, দীর্ঘদিন থেকে তালেবেরহাটের সরকারের খাস জমিতে একটি মুদি দোকান দিয়ে পরিবার নিয়ে জীবন নির্বাহ করে আসছি। ভূমিদস্যু জহির উদ্দিন গংরা বর্তমানে আমার মুদি দোকান ভেঙে দিয়ে সন্তোষপুর ইউনিয়নের তহশিলদারকে ম্যানেজ করে সরকারের খাস জমিতে পাকা বিল্ডিং ঘর নির্মাণ শেষ করেছেন। আমি নাগেশ্বরী ইউএনও এবং বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেও বিচার থেকে বঞ্চিত। সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) মো. কাওছার আহমেদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেনি।
কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ বলেন, আপনার কাছে অভিযোগের কথা শুনলাম। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেবি