দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নাটোরের সিংড়ায় শুক্রবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আত্রাই নদীতে এক উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতায় বাঘাবাড়ী, শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জ, উল্লাপাড়া, পাবনাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ছোট ও বড় মিলে ৩৪টি নৌকা অংশ নেয়। আয়োজকরা জানান, গ্রামবাংলার ঐতিহ্যকে বর্তমান প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই তাদের এই আয়োজন।
গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচকে বর্তমান প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এবং তা টিকিয়ে রাখতে করোনার সময়ে বন্ধ থাকার পর আবারও আয়োজন করা হয়েছে চলনবিল নৌকাবাইচ উৎসবের। এই উৎসবের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিল বাঘাবাড়ী, শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জ, উল্লাপাড়া, পাবনাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ছোট ও বড় মিলে ৩৪টি নৌকা। আর এই নৌকাবাইচ উপভোগ করতে নদীর দুই তীরে ভিড় জমায় কয়েক হাজার নারী-পুরুষ।
পাবনা ভাঙ্গুড়ার প্রভাস কুমার, সিরাজগঞ্জের শহিদুল ইসলাম আব্দুল খালেকসহ প্রতিয়োগিতায় অংশগ্রহণকারীরা জানান, আগে নদী-নালা, খাল-বিল বর্ষাকালে পানিতে ভরে গেলে কোনো কাজ না থাকায় তখনকার মানুষ নৌকাবাইচের আয়োজন করত। কিন্তু এখন নদী-নালা ভরাট হয়ে যাওয়ায় ও অতিরিক্ত খরচের সামর্থ্য না থাকায় এই নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা হারিয়ে যেতে বসেছে। তবে এখনও যদি কোথাও থেকে তাদের প্রতিযোগিতার জন্য ডাকা হয় সেখানেই তারা ছুটে যান। শুধুমাত্র পুরস্কারের আশায় নয় বরং মানুষকে আনন্দ দিতে।
প্রতিযোগিতায় প্কংজ কুমারসহ বিজয়ীরা জানান, তারা প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে জয়লাভ করে পুরস্কৃত হয়ে খুব আনন্দিত। আয়োজক কমিটি যাতে এই প্রতিযোগিতা চলমান রাখেন এই দাবি জানান তারা। নয়ন কুন্ডু নামের এক স্থানীয় ব্যক্তি জানান, এই নৌকাবাইচকে ঘিরে এলাকার প্রতিটি বাড়িতে আত্মীয়-স্বজন আসায় তাদের মধ্যে এক আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়, যা ঈদ ও পূজাসহ বড় উৎসবের মতো আনন্দঘন পরিবেশ সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে। নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা দেখতে আসা কাউসার আহম্মেদ, সোনালী আক্তারসহ দর্শকরা জানান, আগে তারা দাদা-নানার হাত ধরে এই নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা দেখতে যেতেন। কিছুদিন এটা বন্ধ থাকার পর আবারও শুরু হওয়ায় তারা বেশ আনন্দিত।
আয়োজক কমিটির সভাপতি সিংড়া পৌরসভার মেয়র জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, বিভিন্ন এলাকা থেকে নৌকাগুলো প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে এসেছে। ঈদ বা পূজার মতো সিংড়ার মানুষ আনন্দ উপভোগ করছে। যাতে করে গ্রামবাংলার প্রাচীর ঐতিহ্যগুলো হারিয়ে না যায় সেজন্য প্রতি বছর এই নৌকাবাইচ প্রতিয়োগিতার আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগিতার উদ্বোধক ও উদ্যোক্তা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি জানান, প্রধানমন্ত্রীর ভিশন স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য এবং স্মার্ট নাগরিক গড়ে তোলার জন্য বাংলাদেশের যে গ্রামীণ শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এই নৌকাবাইচের আয়োজন করা হয়। যাতে করে তারা শেকড়কে না ভুলে শিখরে উঠতে পারে।
প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের স্বপ্নের তরী, দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে শাহজাদপুরের বাংলার বাঘ, তৃতীয় স্থান অধিকার করে সিরাজগঞ্জের শাপলা এক্সপ্রেস ও চতুর্থ স্থান অধিকার করে শাহজাদপুরের নিউ উড়ন্ত বলাকা। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
এইউ