দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুই স্বাস্থ্য কর্মীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। বুধবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। এসময় আহতরা নিজেদের রক্ষার্থে দৌড়ে গিয়ে হাসপাতালের টয়লেটে আশ্রয় নেন।
আহত দুই স্বাস্থ্য কর্মী হলেন সাইফুল ইসলাম ও টুটুল মিয়া। তারা দু’জনই হাসপাতালের ওয়ার্ড বয় বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সায়মা আফরোজ ইভা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতালের কর্মচারীরা জানান, বিকেল ৩টার দিকে ছাত্রলীগের কর্মী মো. সুজন দুর্ঘটনায় আহত তার এক আত্মীয়কে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান। এসময় জরুরি বিভাগে কর্মরত ওয়ার্ড বয় সাইফুল ইসলাম ও টুটুল মিয়া, অন্য এক রোগীকে চিকিৎসা দিচ্ছিলেন। দুর্ঘটনায় আহত ওই রোগীর দিকে খেয়াল না করে বাজে আচরণ করেন। এসময় সুজনের সঙ্গে তাদের দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে সুজন সেখানে আসা ছাত্রলীগ নেতা মাহদী হাসান রিফাতকে বিষয়টি জানালে সে উপজেলার ২০-২৫ জন কর্মীকে নিয়ে সেখানে আসেন। পরে মাহদীর নেতৃত্বে হাসপাতালের ওয়ার্ড বয় সাইফুল ইসলাম ও টুটুল মিয়াকে মারধর করে লাঞ্ছিত করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
একপর্যায়ে ওয়ার্ড বয় সাইফুল ও টুটুল নিজেদের রক্ষার্থে দৌড়ে গিয়ে হাসপাতালের টয়লেটে আশ্রয় নেন। এসময় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আতঙ্কিত হয়ে পড়েন জরুরি বিভাগসহ হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীরা। পরে ঘটনা জানতে পেরে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আশরাফুল আমিন সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
হাসপাতালের ওয়ার্ড বয় সাইফুল ইসলাম জানান, ওই রোগীর স্বজনদের জানিয়েছিলাম, ডাক্তার অন্য রোগী দেখছেন কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন, একটু ধৈর্য ধরতে হবে। তারা সেটা না মেনে আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়। তাৎক্ষণিক হাসপাতালের বাইরে থেকে ছাত্রলীগের নেতাদের ডেকে এনে মারধর করে। টুটুলকে মারধর থাকে। তারা কিছু বলার সুযোগ দেয়নি। ছাত্রলীগ নেতা মাহদী হাসান রিফাতের নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয় বলে জানান তিনি।
ঘটনার বিষয়ে আরও জানতে ডা. আশরাফুল আলমের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তার সহকারী পরিচয়ে অন্য একজন বলেন, স্যার ব্যস্ত আছেন।
আর আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সায়মা আফরোজ ইভা জানিয়েছেন, তিনি প্রশিক্ষণে বাইরে আছেন। তবে ঘটনার বিষয়ে জানতে পেরেছেন। ডা. সায়মা আফরোজ বলেন, রোগী দেখা নিয়ে তর্কাতর্কি থেকে ঘটনা বড় হয়েছে। আগামীকাল এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সরকারি সফর আলী কলেজ শাখা ছাত্রলীগের ভিপি মাহাদী হাসাত রিফাত দাবি করেন, তাদের এক কর্মী রোগী নিয়ে গেলে তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন হাসপাতালের এক স্টাফ। এ বিষয়ে জানতে গেলে তার ওপরও চড়াও হয়। পরে সেখানে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, ‘আমি কাউকে মারিনি, উল্টো স্টাফরাই আমাদের ওপর আক্রমণাত্মক ছিল।
এইউ