দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কুমিল্লার দেবীদ্বারে নৈশপ্রহরীর হাত-পা ও মুখ বেঁধে রেখে আরহাম ব্যাটারি হাউজ নামে একটি দোকান থেকে প্রায় ৩৫ লাখ টাকার ব্যাটারি চুরির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার দিবাগত রাত পৌন ৩টার দিকে পৌরসভার বানিয়াপাড়া গাউছিয়া মার্কেটে এ দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনাটি ঘটে। এতে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন দোকানের মালিক আল আমিন।
আল আমিন মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানার রাজা চাপিতলা গ্রামের মো. মানিক মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় আল আমিন দেবীদ্বার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আল আমিন বার বার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। পাশে তার ছোট মেয়ে ও স্ত্রী হাউমাউ করে কাঁদছেন। এসময় তার দোকান ও পেছনের গোডাউন পুরো খালি দেখা যায়। দোকানের কেচি গেটের ৭টি তালা ভাঙা নিচে পড়ে আছে। খবর পেয়ে দেবীদ্বার-বিপাড়া সার্কেল শাহ মোস্তফা তারেকুজ্জামান, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি কমল কৃষ্ণ ধর, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) খাদেমুল বাহার বিন আবেদসহ একদল পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
মো. আল আমিন জানান, প্রতিদিনের মতো রাত ১০টার দিকে দোকানে তালা মেরে বাসায় যাই। সকাল ৭টার দিকে পার্শ্ববর্তী এক দোকানদার আমাকে ফোন করে দোকানে চুরির ঘটনা জানালে আমি দৌঁড়ে এসে দেখি গ্যাস দিয়ে ৭টি তালা ভেঙে হ্যামকো ও ভলভোসহ মোট ২৬৮টি ব্যাটারি চুরি করে নিয়ে গেছে চোর চক্র। যার বাজার মূল্য প্রায় ৩৫ লক্ষাধিক টাকা। আমি বিভিন্ন ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে এ দোকান দিয়েছি। চোর আমাকে একেবারে পথে বসিয়ে দিয়ে গেল।
হ্যামকো ব্যাটারির মার্কেটিং ম্যানেজার মো. ফেরদৌস ও ভলভো কোম্পানির ইনচার্জ সাব্বির বলেন, খবর পেয়ে দোকানে এসেছি। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক একটি ঘটনা। আল আমিন আমাদের ব্যবসায়িক পার্টনার। আমরা সাধ্যমতো সহযোগিতা করার চেষ্টা করব।
নৈশপ্রহরী মো. হারুন জানান, রাত পৌনে ৩টার দিকে ২টি পিকআপ থেকে প্রায় ১০-১২ জন লোককে নামতে দেখি। আমার সন্দেহ হলে সামনে এগিয়ে যাই, কোনো কিছু জিজ্ঞাসা করার আগেই ওরা আমার মুখ গামছা ও কসটেপ দিয়ে বেঁধে ফেলে। পরে আমার হাত-পা বেঁধে দোকানের পেছনে নিয়ে আমাকে নিচে ফেলে আমার ওপর কার্পেট দিয়ে তিনজন বসে পড়ে। বাকিরা প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা সময় ধরে ব্যাটারিগুলো পিকআপে তোলে। তিনজনের মধ্যে দুইজন আমাকে মেরে ফেলতে চেষ্টা করে কিন্তু একজন আমাকে না মারা জন্য বলে। না হয় ওরা আমাকে মেরে ফেলত। চুরি শেষে আমাকে বাধা অবস্থায় ফেলে ওরা পালিয়ে যায়। পরে আমার গোঙানির শব্দ শুনে এক লোক আমাকে উদ্ধার করে।
দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কমল কৃষ্ণ ধর বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত আল আমিন থানায় অজ্ঞাতনামা চোরদের আসামি করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনাটির তদন্ত চলছে। দোকানের আশপাশে যত সিসি ক্যামেরা আছে সবগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংঘবদ্ধ চোর চক্রকে গ্রেপ্তারে আমাদের সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে।
এইউ