দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

আট মাস পর নিজের বাড়ি ফিরলেন চৌগাছার মাকাপুরের লন্ডন প্রবাসী ব্যারিস্টারের সেই নির্যাতিত পিতা হায়দার আলী ধনী। মঙ্গলবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তিনি নিজের বাড়িতে ফেরেন।
জানা যায়, নিজের সহায়-সম্পত্তি যেন কাল হয়েছিল হায়দার আলী ধনীর। সম্পত্তির লোভে তার স্ত্রী লতিফা হায়দার, ছেলে আল ইমরান বাবু ও ইমামুল হাসান এবং মেয়ে স্নেহা পারভীন বিউটি, তামান্না নাজনীন লাভলী, জেসমিন আক্তার লাকি এবং জেসমিনের স্বামী আলী আহমেদ ৭০ বছরের বৃদ্ধ পিতাকে নানাভাবে অমানুষিক নির্যাতন করতেন।
বৃদ্ধ হায়দারের মৃত্যু নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সময় খাবারের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে দেওয়া, মারধর করা, এমনকি শীতের রাতে খালি গায়ে রাখা হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার আরেক ছেলে ইংল্যান্ডে প্রবাসী ব্যারিস্টার এম মুর্তজা সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে বৃদ্ধ পিতার ওপর করা নির্যাতন দেখতে পেয়ে বাড়ি ফিরে আসেন বাবার চিকিৎসা করাতে।
এদিকে ব্যারিস্টার মুর্তজা বাড়ি ফিরছে এ খবর পেয়ে বৃদ্ধের স্ত্রী ও অন্য ছেলেমেয়েরা হায়দার ধনীকে নিয়ে ৮ মাস আগে হঠাৎ ঘরবাড়ি তালাবদ্ধ করে অপহরণ করে নিয়ে যায়। ব্যারিস্টার মুর্তজা দেশে ফিরে তার বাবাকে চৌগাছা থানা পুলিশের সহযোগিতায় উদ্ধার করে আদালতের মাধ্যমে নিজের জিম্মায় নেন এবং তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
আদালতের নির্দেশে হায়দার আলীকে নির্যাতনের জন্য তার ছেলেমেয়েরা গ্রেপ্তার হন এবং জেল খাটেন। নির্যাতন থেকে বাবাকে উদ্ধার এবং আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের গ্রেপ্তার ও জেল খাটানো এবং বাবার সহায়-সম্পত্তির লোভে অন্য ভাইবোনেরা ব্যারিস্টার মুর্তজাকে মেরে ফেলার হুমকি দেন। বার বার মিথ্যা মামলায় ব্যারিস্টারকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেন।
মামলায় ব্যর্থ হয়ে আবারও তারা নানা ষড়যন্ত্র, ফন্দি আঁটে এবং ব্যারিস্টার মুর্তজার নামে মিথ্যা অপবাদ ছড়াতে থাকে। স্ত্রী ও কন্যারা বৃদ্ধের নিজের বাড়িতে তালা মেরে রাখে যেন হায়দার আলী নিজের বাড়িতে না উঠতে পারেন। বাধ্য হয়ে ব্যারিস্টার মুর্তজা তার বাবাকে ভাড়া করা বাসায় রেখে ফুফু, ফুফাতো ভাই, চাচা ও অন্য লোক রেখে দেখভাল ও চিকিৎসা করার ব্যবস্থা করে লন্ডনে তার কর্মস্থলে ফিরে যান।
এসময় ব্যরিস্টারের অন্য ভাই-বোনেরা সম্পত্তির লোভে বাবাকে আবারও অপহরণের চেষ্টা করে এবং আদালত থেকে নিজেদের জিম্মায় নিতে চান। তাতেও ব্যর্থ হন তারা। হায়দার ধনী লন্ডনে না গিয়ে তার জীবনের বাকি সময়টুকু নিজ বাড়িতে কাটাতে চান বলে ব্যারিস্টার ছেলেকে জানান।
হায়দার আলী তার স্ত্রী, দুই ছেলে ও মেয়েদের দ্বারা প্রাণনাশের আশঙ্কায় চৌগাছা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে মঙ্গলবার (১২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে চৌগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা এস এম হাবিবুর রহমানের সহযোগিতায় এবং স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে সন্তানদের মেরে রাখা তালা ভেঙে নিজ বাড়িতে ফেরেন। এসময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। হায়দার আলী বাড়ি ফেরার সময় গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য ইমান আলী, মাকাপুর বলস্নভপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুর ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
এইউ