দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যশোরে অপমান সইতে না পেরে এক বিধবার আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (১০ সেপ্টেম্বর) ভোরে যশোরের মণিরামপুর উপজেলার পোড়াডাঙ্গা গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। আত্মহননকারী রহিমা বেগম (৩৫) ওই গ্রামের মৃত ইহছানুল ফকিরের স্ত্রী। ঘটনার পর আত্মহত্যা প্ররোচনার অভিযোগে পুলিশ বরুণ দত্ত (২৮) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। বরুণ দত্ত একই গ্রামের রবীন্দ্রনাথ দত্তের ছেলে। এ ঘটনায় রহিমার ভাই আবদুল্লাহ বিশ্বাস বাদী হয়ে মামলা করেছেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার গভীর রাতে বরুণ দত্তকে ওই বিধবা নারীর ঘরে দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা আটক করে। এসময় বরুণ দত্তসহ ওই নারীকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আক্তার হোসেন, গ্রাম পুলিশ জাহাঙ্গীর হোসেন, আবু হানিফা, আব্দুল মান্নান বরুণ দত্তকে তাদের জিম্মায় নেন। অভিযোগ উঠেছে, তারা পুলিশে খবর না দিয়ে বিষয়টি আপোস-রফা করতে বরুণ দত্তের বাবার কাছে দেনদরবার শুরু করে। অনৈতিক কাজের অভিযোগ তুলে বরুণ দত্তকে আক্তার হোসেনের বাড়িতে সারারাত আটকে রাখা হয়।
অপরদিকে রহিমা বেগমকে তার নিজ বাড়ির ঘরে রাখা হয়। এরই মধ্যে অপমান সইতে না পেয়ে রহিমা বেগম গলায় ফাঁস দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। রোববার ভোরে ওই নারীর সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলতে দেখতে পেয়ে স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িতে খবর দেয় গ্রাম পুলিশ জাহাঙ্গীর হোসেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য বিল্লাল হোসেন মোড়ল জানান, গভীর রাতে চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে দেখতে পান বরুণ দত্তকে রহিমার ঘর থেকে বের করা হচ্ছে। পরে বরুণ দত্তকে স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আক্তার হোসেনের বাড়িতে সারারাত আটকে রাখা হয়। ভোরে জানতে পারেন ওই নারী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
স্থানীয় গ্রাম পুলিশ জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, বরুণ দত্তকে ওই নারীর ঘর থেকে বের করার পর মণিরামপুর থানা পুলিশে খবর দেওয়ার কথা তার স্মরণে ছিল না। বিষয়টি ভুল হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এ ব্যাপারে আক্তার হোসেন জানান, বিষয়টি গোপনে মীমাংসার জন্য বরুণকে বাড়িতে আটকে রাখা হয়েছিল। কিন্তু পরে যখন জানতে পারেন ওই নারী আত্মহত্যা করেছে, তখন স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িতে খবর দেওয়া হয়। রহিমার ভাই আব্দুল্লাহ বিশ্বাস দাবি করেছেন, তার বোনকে মারধর করা হয়েছে। অপমানে সে আত্মহত্যা করেছে।
মণিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মনিরুজ্জামান জানান, এ ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে একজনকে আটক করা হয়েছে। ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এইউ