দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস নদীতে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা। বৃহস্পতিবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে অনুষ্ঠিত হওয়া এই বাইচ উপভোগ করতে লাখো মানুষের ঢল নামে তিতাসের দুই পাড়ে। আবহমান বাংলার এই ঐতিহ্যকে ঘিরে তিতাসের দুই পাড় যেন মিলনমেলায় পরিণত হয়।
বাংলা সংস্কৃতির প্রাচীন ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসনের আয়োজনে প্রতি বছরের মতো এবারো নৌকাবাইচের আয়োজন করা হয়। তিতাস নদীর শিমরাইলকান্দি শ্মশান ঘাট থেকে শুরু হয়ে মেড্ডা কালাগাজীর মাজার পর্যন্ত প্রতিযোগিতার সীমানা নির্ধারণ করা হয়।
প্রতিযোগিতায় জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে ১৫টি নৌকা পাঁচটি পর্বে অংশগ্রহণ করে। তিতাস নদীর বুক চিড়ে বিজয় অর্জনে অদম্য গতিতে ছুটেছে মাঝি-মাল্লার দল। জারি সারি গান আর ‘হেঁইও হেঁইও’ রবে যেন মেতে উঠেছে চারপাশ।
এদিকে বাইচ উপভোগ করতে দুপুরের পর থেকেই তিতাস নদীর দু’ধারে লাখো মানুষের সমাগম ঘটে। দর্শকদের উপস্থিতিতে পূর্ণ হয়ে উঠে পুরো এলাকা। যেন প্রাণের উচ্ছ্বাসে মেতে উঠে সবাই। বাইচালদের তুমুল গতিতে এগিয়ে চলার প্রতিযোগিতা মুগ্ধ করে আসা দর্শকদের।
বাইচ দেখতে আসা দর্শনার্থীরা জানান, নৌকাবাইচ হচ্ছে বাঙালির প্রাণের উৎসব। যখনই নৌকাবাইচ দেখি, তখনি নদীর সঙ্গে বাঙালির যে প্রাণের মেলবন্ধন তা ফুটে ওঠে।
এদিকে এ ধরনের উৎসবমুখর প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে পেরে উচ্ছ্বসিত অংশগ্রহণকারী মাঝি মাল্লারা। তারা বলেন, নৌকা আর নদীর সঙ্গে আমাদের আত্মার সম্পর্ক। যতোদিন নৌকাবাইচ থাকবে, ততোদিন আমরা থাকব। অনেক আনন্দ নিয়ে আজকের নৌকাবাইচে অংশ নিয়েছি। পুরো নৌকাবাইচ অনুষ্ঠানটি ছিল প্রতিযোগিতামূলক।
বাইচে প্রথম স্থান অর্জন করে নবীনগর উপজেলার নৌকা। এছাড়াও সরাইল উপজেলা দ্বিতীয় ও আশুগঞ্জ উপজেলার নৌকা তৃতীয় স্থান অধিকার করে। পরে প্রথম স্থান অর্জনকারী দলকে ১ লাখ টাকা, দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারীকে ৫০ হাজার টাকা এবং তৃতীয় স্থান অর্জনকারীকে ৩০ হাজার টাকা এবং ট্রফি উপহার হিসেবে দেওয়া হয়। এছাড়াও বাইচে অংশ নেওয়া প্রতিটি দলকে ২৫ হাজার টাকা করে দেয়া হয়।
জেলা প্রশাসক মো. শাহগীর বলেন, জেলা প্রশাসন যে নৌকাবাইচের আয়োজন করেছে তা উপভোগ করতে লাখো মানুষের সমাগম ঘটেছে। এতেই স্পষ্ট বুঝা যায় নৌকাবাইচ আমাদের আত্মার সঙ্গে মিশে আছে। আবহমান বাংলার এই ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে প্রতিবছর এই বাইচের আয়োজন করা হয়ে থাকে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নৌকাবাইচের কলেবর দিন দিন বাড়ছে।
জেবি