দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা না দিয়ে এবং কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো ধরনের ছুটি বা অনুমোদন না নিয়ে প্রমোদ ভ্রমণে বান্দারবান গেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২৫০শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসকসহ সরকারী সাত চিকিৎসক। চিকিৎসা সেবা না পেয়ে দূর দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
তবে হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা জানান, ছুটিতে থাকা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ফিরে এলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলার অন্যতম প্রধান সরকারী স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র ২৫০শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল। এই হাসপাতালটি জেলাবাসীর উন্নত চিকিৎসা সেবা নেয়ার একমাত্র ভরসাস্থল। হাসপাতালটিতে জরুরী বিভাগসহ অন্তত ১৪টি বিভাগ রয়েছে। প্রতিদিন গড়ে আড়াই থেকে ৩ হাজার রোগী হাসপাতালটিতে চিকিৎসা সেবা নিয়ে থাকেন।
বৃহস্পতিবার সপ্তাহের শেষ দিন হাসপাতালটিতে তীব্র রোগীর চাপ থাকলেও হাসপাতালটির আবাসিক চিকিৎসক সহ ৭জন চিকিৎসক উপস্থিত না থাকায় ভোগান্তিতে পরেন রোগীরা। অনুউপস্থিত থাকা চিকিৎসকেরা হলেন হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. ফায়েজুর রহমান, গাইনি চিকিৎসক ডা. শরিফ মাসুমা ইসমত, ডা. মারিয়া পারভীন, ডা. আইনরিন হক, ডা. কামরুল নাহার বেগম, ডা. ফাহমিদা ও ডা. খোকন ।
শহরের মৌড়াইল এলাকা থেকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা আব্দুস সাত্তার নামে এক রোগী বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২৫০শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের ডাক্তাররা কোনো ধরনের ছুটি না নিয়েই ভ্রমনে যাবেন এটা ঠিক নয়। কারণ এখানে অনেক রোগী এসে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়েও চিকিৎসা নিতে পারছেন না। তারা হাসপাতালের রোগীর সেবা না দিয়ে ঘুরতে যাবে এটা কখনোই কাম্য নয়। দীপক নামের আরেক রোগী বলেন, এই হাসপাতালে রোগীর চাপ থাকলেও ডাক্তাররা এমনিতেই রোগী কম দেখে। তার উপর এখন বেশ কয়েকজন ডাক্তার ছুটি না নিয়ে ঘুরতে চলে গেছেন।
এদিকে হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. রানা নূরুস শামস জানান, সরকারী প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী জরুরী প্রয়োজন ছাড়া ডেঙ্গু মৌসুমে কেউ ছুটি কাটাতে পারবেন না। তবে তারা বান্দারবান ছুটিতে গেলে নিজ দায়িত্বে গেছেন। তাদের কেউ ছুটি নিয়ে যাননি। তত্ত্বাবধায়ক আসার পর তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান এই চিকিৎসক কর্মকর্তা।
হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্বে থাকা অপর আবাসিক চিকিৎসক ডা. মো. সুমন ভূইঞাঁ জানান, গাইনি বিভাগসহ ৭ জন চিকিৎসক অনুপস্থিত রয়েছেন। এতে চিকিৎসা ব্যবস্থা কিছুটা ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে ভিন্নভাবে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবী করেন।
এদিকে ভ্রমনে থাকা আবাসিক চিকিৎসক ডা. ফাজুর রহমান ফয়েজ জানান, তিনি ছুটি নিয়ে পরিবাবের সাথে অবকাশ যাপনে আছেন। অন্য চিকিৎসকেরাও ছুটির আবেদন জমা দিয়েছেন।