দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

শরীয়তপুর পৌরসভার কাশাভোগ এলাকার জান্নাতুন ফেরদৌস স্বর্ণা নামে এক এইচএসসি পরীক্ষার্থী প্রসব ব্যথা ওঠার পর গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। পরে গতকাল বুধবার সকাল ৭টায় সেখানে অস্ত্রোপচারের পর তিনি জন্ম দেন একটি কন্যাসন্তান। এখন শরীরিক অসুস্থতা থাকলেও মনের জোরে বৃহস্পতিবার (৭ সেপ্টেম্বর) পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন তিনি।
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষা দেন সে। জেলা প্রশাসকের সহযোগিতায় সব দুশ্চিন্তা জয় করে প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাস নিয়ে আজ ঠিকই শরীয়তপুর শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে (নিউ মেট্রো ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড ক্লিনিক) বসে শেষ করলেন একটি পরীক্ষা।
জান্নাতুল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী। পরীক্ষার হল পড়েছিল সরকারি গোলাম হায়দার খান মহিলা কলেজে। তিনি সন্তান পেটে নিয়ে আগের পরীক্ষাগুলো হলে বসে দিয়েছেন। আজ পরীক্ষাকেন্দ্রের নিয়ম-বিধি মেনে নিউ মেট্রো ডায়াগনস্টিক এন্ড ক্লিনিকে চেয়ারে বসে পরীক্ষা দেন তিনি। আজ ছিল তার ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি দ্বিতীয় পত্র। তত্ত্বাবধানে ছিলেন একজন শিক্ষক ও একজন পুলিশ সদস্য। আর জান্নাতুনের সদ্যোজাত মেয়ে তখন তার নানুর কোলে।
জান্নাতুনের বাড়ি শরীয়তপুর পৌরসভার কাশাভোগ এলাকায়। তার স্বামীর নাম সাঈদ খান অনিক। অনিক একজন ব্যবসায়ী।
জান্নাতুন ফেরদৌস স্বর্ণা বলেন, সন্তানের কথা ভেবেই পরীক্ষা দিলাম। পরীক্ষাটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বাবুকে পেটে নিয়ে এতো কষ্টের পরও পড়াশোনা চালিয়ে গেছি। আজ আমার সন্তান পৃথিবীতে এসেছে তাই জেলা প্রশাসকের সহযোগিতায় ক্লিনিকে বসে পরীক্ষা দিয়েছি। সকল বাধা পেরিয়ে জীবনের লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে চাই। ক্লিনিকে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই।
জান্নাতুনের স্বামী সাঈদ খান অনিক বলেন, আমার ও দুই পরিবারের সহযোগিতায়ই পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন জান্নাতুন। আমরা চাই লেখাপড়া চালিয়ে যাক জান্নাতুন। সন্তান গর্ভে নিয়েই জান্নাতুল পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছিল এবং পরীক্ষায়ও অংশ নিয়েছিল।
সরকারি গোলাম হায়দার খান মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. ওয়াজেদ কামাল বলেন, তার শিক্ষা জীবন যেন ব্যাহত না হয় এই চিন্তা করে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে পরীক্ষাকেন্দ্রের নিয়ম-বিধি মেনে ক্লিনিকের বিছানায় বসে যেন পরীক্ষা দিতে পারে সেই ব্যবস্থা করা হয়েছে। জান্নাতুনের পরীক্ষা দেওয়ার অদম্য ইচ্ছাকে পূরণ করা হয়েছে। আশা করি সে পরীক্ষায় ভালো করবে।
শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইএনও) জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র বলেন, জান্নাতুনের বিশেষ অসুস্থতার জন্য জেলা প্রশাসক স্যারের বিশেষ বিবেচনায় তার পড়াশোনা যেন অক্ষুণ্ণ থাকে, তাই ক্লিনিকে তার পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সকল বাধা পেরিয়ে জান্নাতুন জীবনের লক্ষ্যে যেন এগিয়ে যায় এই প্রত্যাশা করি।
জেবি