দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

জোটের স্বার্থে ২০০৮ সালের নির্বাচনে কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর ও ভেড়ামারা) আসনটি জাসদকে ছেড়ে দেয় আওয়ামী লীগ। নৌকা প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য হন হাসানুল হক ইনু। পরের দুই নির্বাচনেও তিনিই হন এমপি। কিন্তু এবার ইনুর বাধা হতে পারে আওয়ামী লীগের সঙ্গে দলটির চলমান বিবাদ। স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা চাইছেন দলীয় কারও মনোনয়ন।
অন্যদিকে এক সময়ের বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ আসনে এখনও ভোটের মাঠে নেই বিএনপি। সরকার পতনের একদফা আনন্দোলনেই বন্দী তারা।
১৪ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে আগামী নির্বাচনে হাসানুল হক ইনুর পাশাপাশি আরও কয়েকজন দলীয় মনোনয়ন পেতে এলাকায় সামাজিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। মিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একাধিকবার নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিন, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের সাবেক দুই অধ্যক্ষ ইফতেখার মাহমুদ এবং কুষ্টিয়া নাগরিক কমিটি ও বিএমএ কুষ্টিয়া জেলা শাখার সভাপতি এস এম মুসতানজীদ দলীয় মনোনয়ন চাইবেন বলে শোনা যাচ্ছে।
তবে বিএনপি সরকার পতনের একদফা আন্দোলনে থাকলেও এ আসনে তাদের সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় রয়েছেন ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব লিংকন, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির দুই সদস্য ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরী এবং ফরিদা ইয়াসমিন।
জোট ঠিক থাকলে আগামী নির্বাচনে এই আসনে হাসানুল হক ইনুর মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তবে নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে তৃণমূল আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে জাসদের বিরোধ ইনুর মাথাব্যথার কারণ হতে পারে।
বিরোধের ব্যাপারে জানতে চাইলে ইনু বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞ। কারণ, তারা এর আগেও আমার জন্য কাজ করেছেন। আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন। এবারও করবেন।’
তবে ইনুর জন্য বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াবে স্থানীয় আওয়ামী লীগ। দীর্ঘদিনের আধিপত্য ও প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা বর্তমানে প্রকাশ্য সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। দুই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ইউনিয়ন পর্যায়ে শুরু হয়েছে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। গত কয়েক বছরে সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী। হামলা ও মামলা হয়েছে ডজনের বেশি।
আওয়ামী লীগ নেতাদের দাবি, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে জাসদ গণবাহিনীর হাতে তাদের বহু নেতাকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। বর্তমানে ‘বিএনপির সন্ত্রাসীরা’ জাসদে যোগদান করে আবারও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের রক্ত ঝরাচ্ছে। তাই দলের নেতাকর্মীরা এবার জাসদকে কোনো ছাড় দিতে নারাজ।
মিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কামারুল আরেফিন বলেন, ‘নৌকা প্রতীক নিয়ে ভোট করে জেতার পর ইনু সাহেব আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের চিনতেই চান না। এবার তার নির্বাচনের মাঠে তৃণমূল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নামানো যাবে না। তাই এবার আমি নিজেই মনোনয়ন চাইব।’
আর মাঠে শক্তিশালী অবস্থান থাকলেও এখানে বিএনপির মাথাব্যথার কারণ হতে পারে তাদের দলীয় কোন্দল। বর্তমানে এই দুই উপজেলায় বিএনপির নেতাকর্মীরা স্পষ্ট তিন ভাগে বিভক্ত। তবে বিএনপি নেতারা বলছেন, সরকার পতনের একদফা আন্দোলন না মানা হলে নির্বাচনে যাবেন না তারা।
আরএ