দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বন্যার পানি যতই নামছে ততই ফসলের ক্ষতির চিত্র ভাসছে আর কৃষক কাঁদছে। কুড়িগ্রামে তিন দফা বন্যায় আমন ধান ও নানা সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সরকারি হিসাবে চরাঞ্চল ও নিন্ম অঞ্চলে বর্তমানেও ৯ দিন থেকে ধান-সবজিক্ষেত ৭ হাজার হেক্টর পানির নিচে নিমজ্জিত। লক্ষ্যমাত্রার ১ হাজার হেক্টর আমন ধানসহ নানা সবজি পচে যাওয়ায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। নতুন করে ধানের চারা রোপণ করতে অর্ধ না থাকায় পরিবার নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক। সরকারি সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন কৃষকরা। জেলা কৃষি বিভাগ বলছে বন্যার পানি ধীরে নামছে। নতুন করে ফসল চাষে কৃষকের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করা হচ্ছে।
কুড়িগ্রাম জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সোমবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালের তথ্যমতে, কুড়িগ্রামের ৯টি উপজেলায় আমনের লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ২০ হাজার ৫শ’ হেক্টর। তিন দফা বন্যায় বর্তমান পর্যন্ত আমন ধান ৭ হাজার হেক্টর পানির নিচে নিমজ্জিত আছে এবং ১ হাজার হেক্টর ধান ও সবজিক্ষেত পচে গেছে। জেলা কৃষি বিভাগের নির্দেশে সব উপজেলা কৃষি অফিস বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, দুধকুমার, ধরলা, ব্রহ্মপুত্র, গঙ্গাধর, তিস্তাসহ ১৬টি নদ-নদীবেষ্টিত ও ৪৫০টি চর-নিম্ন অঞ্চল এবং চারদিকে সীমান্তঘেঁষা কুড়িগ্রাম জেলায় স্মরণকালের ভয়াবহ তিন দফা বন্যায় সবকটি উপজেলার রোপণকৃত আমন ধান ও নানা সবজির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দীর্ঘ ৯ দিন থেকে ৭ হাজার হেক্টর ফসল বন্যার পানিতে নিমজ্জিত আছে। এদিকে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে ১ হাজার হেক্টর আমন ধান ও সবজিক্ষেত একেবারে পচে গেছে। নাগেশ্বরী, ভুরুঙ্গামারী, চিলমারী, কুড়িগ্রাম সদর, উলিপুর, রাজারহাট, রাজিবপুর ও রৌমারী উপজেলার ধান ও নানা জাতের সবজিক্ষেত সবচেয়ে বেশি চাষ হয় আর সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এসব উপজেলার কৃষকরা দুশ্চিন্তায় পরিবার নিয়ে সময় অতিবাহিত করছেন। এদিকে বিভিন্ন পুকুর ও নদীর বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় ক্ষতির মুখে মাছ চাষিরাও।
কুড়িগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার প্রান্তিক কৃষকরা বলেন, কুড়িগ্রামের ৯০ ভাগ মানুষ কৃষির ওপরে নির্ভরশীল। বিভিন্ন দুর্যোগ মোকাবিলা করে ধান ও সবজিক্ষেত চাষ করে পরিবার পরিজন নিয়ে দিনযাপন করেন। কিন্তু পরপর তিন দফা বন্যায় বোরো ধান রোপণের পরেও বন্যার পানিতে ডুবে ধান একেবারে পচে গেছে। এখনও জমির ধান ও সবজিক্ষেত ৯ দিন থেকে পানিতে ডুবে আছে। আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন তারা।
নাগেশ্বরী পৌরসভার স্থানীয় অনেক কৃষক বলেন, বন্যার পানি নামছে আর ফসলের ক্ষতির চিত্র ভাসছে। পরপর তিন দফা বন্যায় আমন ধান ও নানা সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ভৈতুলী দোলায় প্রায় শতাধিক কৃষকের ৭০ একর জমির আমন ধান বন্যার পানিতে ডুবে পচে গেছে। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। এখনও জমির ধান ও সবজিক্ষেত ৯ দিন থেকে পানিতে ডুবে আছে। আমরা আর্থিকভাবে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।
বল্লভের খাস ইউনিয়নের ধারিয়ারপাড, ভিতরবন্দ, খাসমহল ও ফান্দেরচর এলাকার কয়েকজন কৃষক বলেন, দুইবার আমন ধান রোপণ করেছি। পটল, ঢেঁড়স, চিচিংগা, বেগুন, চালকুমড়া তিন দফা বন্যায় সব ফসল গাছ মরে গেছে। ফলে খরচকৃত টাকা ঘরে তুলতে পারিনি।
নাগেশ্বরী পৌরসভার গোদ্ধারের পাড় এলাকার কৃষক সেকেন্দার আলী বলেন, চতলা দোলায় আড়াই বিঘা জমিতে দুই বার ধান রোপণ করেছি কিন্তু তিন দফা বন্যায় দুইবারের লাগানো ধান পানি ডুবে পচে গেছে। পরিবার নিয়ে যে কিভাবে বাঁচব। একই এলাকার সৈফুর রহমানের ১০ বিঘা ও আবুল হোসেনের সাড়ে ৯ বিঘা জমির ধান চতলা দোলায় রোপণ করেন কিন্তু ওই ধান তিন দফা বন্যার পানি ডুবে পচে যায়। একই অবস্থা কৃষক মাহা আলম, সাহা আলম, আবুল হোসেন, আনছার আলী ও আহাদ আলী। চতলা দোলায় প্রায় ৬০ জন কৃষকের ৪০ একর জমির আমন ধান বন্যার পানিতে ডুবে পচে গেছে। সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন তারা।
কুড়িগ্রাম জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিপ্লব কুমার মোহন্ত বলেন, বন্যার পানি নামছে আর ক্ষতির চিত্র ভাসছে। এ পর্যন্ত ধান ও সবজিক্ষেত ৭ হাজার হেক্টর পানির নিচে নিমজ্জিত। কৃষকের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করা হচ্ছে।
এইউ