দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

প্রসাবের রাস্তায় সমস্যার জন্য শনিবার সকালে শিশুসন্তানকে হাসপাতালে ভর্তি করেন তার বাবা-মা। চিকিৎসক জানায় অপারেশন করলে সব ঠিক হয়ে যাবে। তাই ওইদিন রাত ৮ টায় ওটিতে নিয়ে যাওয়া হয় শিশুটিকে।সেখানে অপারেশনের দায়িত্বে থাকা ডাক্তার একটি ইনজেকশন দিলে আস্তে করে চোখ বন্ধ করে ফেলে। এরপর শিশুটি আর চোখ মেলেনি। রাত সাড়ে নয়টায় ডাক্তার জানায় শিশুটি মারা গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে কুমিল্লা আল-নূর হসপিটালে। নিহত শিশু নূর মোহাম্মদ বুড়িচং উপজেলার রাজাপুর গ্রামের মো.সবুজ মিয়ার ছেলে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, শনিবার সকাল ১০ টায় তানিয়া আক্তার এবং বাবা সবুজ মিয়া ছেলের প্রস্রাবের রাস্তার সমস্যা নিয়ে কুমিল্লা বাগিচাগাও আল-নূর হসপিটালে ভর্তি হন। ডাক্তার বলেছে অপারেশন করলে সমস্যা ঠিক হয়ে যাবে তাই রাতে অপারেশনের জন্য রাত ৮ টায় ওটিতে নিয়ে যায়। কন্ট্রাক হয় ৬০ হাজার টাকা।
পুরো হসপিটাল জুড়ে ছিল শোকের মাতম। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে মায়ের আহাজারিতে আর কান্নায় ভারি হয়ে গেছে হসপিটালের ভিতর আর বাহির।
নিহত শিশুর মা মোসা. তানিয়া আক্তার বলেন, আমি আমার ভালো ছেলেকে নিয়ে হসপিটালে আসছি। আমার ভালো ছেলেকে তারা মেরে ফেলেছে। রাতের ৭টায় এসে আমার স্বামীর কাছ থেকে স্বাক্ষর নিয়ে ৮ টায় ওটিতে নিয়ে যায়।
সেখানে ঢুকানোর পরে আমার ছেলেকে একটা ইনজেকশন দেয় সাথে সাথে আমার ছেলে চোখ বন্ধ করে ফেলে আর চোখ মেলেনি। আমার ছেলে মারা গেছে রাত ৯ টায় এখন দুপুর ২টা বাজে এখনও আমার ছেলের লাশের মধ্যে বরাফ মেডিসিন কিছুই দেয় নাই। তারা আমার ছেলে ফালাইয়া চলে গেছে আর কোনো খবর নেয় নাই।
নিহত শিশুর বাবা সবুজ মিয়া বলেন, আমার ভালো ছেলেকে তারা মেরে ফেলেছে। আমার ছেলে প্রস্রাবের রাস্তায় সমস্যা ছিল। এই সমস্যার জন্য এতো বড় সমস্যা হতে পারে না। আমার স্বাক্ষর নিয়ে রাতে অপারেশন করানোর জন্য ওটিতে নিয়ে গেছে। একটু পরে এসে বলে আমার ছেলে মারা গেছে।
ডাক্তার দেবাশীষ চক্রবর্তীর সাথে যোগাযোগ করতে মুঠো ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লা সিভিল সার্জন ডা. নাসিমা আক্তারকে ফোন দিলে মুঠো ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এবিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লা ডিপুটি সিভিল সার্জন ডা.নাজমুল আলম বলেন, আমাদের কাছে এখনও কেউ অভিযোগ করেনি। আমরা যেহেতু বিষয়টি জেনেছি তদন্ত কমিটি করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।
এফএইচ