দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া ও স্বরুপকাঠী উপজেলা থেকে ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৬ আগস্ট) স্বরুপকাঠীর আটঘর কুড়িয়ানা ইউনিয়নে ধলহার গ্রামে নিখোঁজের ছয় দিন পর পেয়ারা গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় শুভ মিস্ত্রী নামের এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া সকালে জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার দক্ষিণ বড়মাছুয়া গ্রামের একটি পুকুর থেকে মো. ইব্রাহীম নামে এক বাকপ্রতিবন্ধী যুবকের ভাসমান লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। আগের দিন শুক্রবার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় মঠবাড়িয়া পূর্ব সেনের টিকিকাটা গ্রামের নিজ বসতঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় রেজাউল ইসলাম নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়।
শুভ মিস্ত্রী (২৬) আটঘর কুড়িয়ানা ইউনিয়নে ধলহার গ্রামের মধু সুধন মিস্ত্রির ছেলে। মঠবাড়িয়ায় নিহত ইব্রাহীম ঘোপখালী গ্রামের মৃত ইউনুচ হাওলাদারের ছেলে ও রেজাউল ওই গ্রামের লিবিয়া প্রবাসী নাজমুল হোসেনের ছেলে।
পুলিশ জানায়, বরগুনা এলাকার নিপা মিস্ত্রীর সঙ্গে তিন বছর আগে ধলহার গ্রামের শুভ মিস্ত্রীর বিয়ে হয়। গত এক বছর ধরে তাদের পারিবারিক কলহ চলছে। একপর্যায়ে নিপা মিস্ত্রী তার বাবার বাড়ি চলে যায়। সম্প্রতি ধলহার এলাকার সজল মিস্ত্রী ও শুভ্র মিস্ত্রী বিষয়টি সালিশ মীমাংসার চেষ্টা করেন। এর দুই দিন পরে গত সোমবার থেকে (২১আগস্ট) শুভ মিস্ত্রী নিখোঁজ রয়েছে। মঙ্গলবার তার মা নেছারাবাদ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। শনিবার সকালে পেয়ারা বাগানে তার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পায় সেখানকার শ্রমিকরা।
এ বিষয়ে নেছারাবাদ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাফর আহম্মেদ বলেন, সকালে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠাই। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পিরোজপুর মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে বিস্তারিত বলা যাবে। এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান আছে।
এদিকে মঠবাড়িয়ার পুলিশ জানায়, নিহত ইব্রাহীমের বাবা মারা যাবার পর মা রেনু বেগম পার্শ্ববর্তী শরনখোলা উপজেলায় দ্বিতীয় বিয়ে করে স্বামীর সঙ্গে বসবাস করছিলেন। এদিকে বাকপ্রতিবন্ধী ইব্রাহীম ভবঘুরে জীবনযাপন করে আসছিল। শনিবার সকালে পার্শ্ববর্তী বেতমোর গ্রামের একটি পুকুরে ইব্রাহীমের লাশ ভাসতে দেখে এলাকাবাসী পুলিশে খবর দেয়। এছাড়া শুক্রবার বিকেলে রেজাউলের মা ও ছোট ভাই বেড়াতে গেলে ঘরের দরজা জানালা বন্ধ করা অবস্থায় সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো রেজাউলের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। রেজাউলের মৃত্যুতে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ব্যাপারে তার মামা মো. সোলায়মান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
মঠবাড়িয়া থানার ওসি মো. কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, দুটি মৃত্যুই রহস্যজনক হওয়ায় লাশ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর রহস্য জানা যাবে। এ ঘটনায় থানায় দুটি পৃথক অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এইউ