দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পিরোজপুর -১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামের সাবেক নায়েবে আমীর মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে করা মামলার বাদী বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর গার্ড অব অনার ও দাফনে মুক্তিযোদ্ধাদের অংশ না নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন পিরোজপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক আহমেদ শহিদুল হক।
তার দাবি, মানিক পশারীর মরদেহ পিরোজপুরে আনার দিন পুষ্পস্তবক নিয়ে সদর উপজেলা পরিষদে গেলে তার সঙ্গে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। এ সময় তার কাছ থেকে পুষ্পস্তবক ছিনিয়ে নিয়ে ফেলে দেওয়া হয়। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তারা রাতে দাফনে যাননি।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বেলা ১১টায় পিরোজপুর মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের সামনে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, পিরোজপুর সদর উপজেলা কমান্ড আয়োজিত মানববন্ধনে এসব কথা বলেন তিনি।
আহমেদ শহিদুল হক বলেন, ‘মানিক পশারীর মরদেহ পিরোজপুরে আসার দিন আমি পুষ্পস্তবক নিয়ে সিও অফিসে গিয়েছিলাম। সেখানে আমার সঙ্গে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। আমার কাছ থেকে পুষ্পস্তবক ছিনিয়ে নিয়ে বাইরে ফেলে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরবর্তী কর্মসূচি বাদ দিই। পরে রাতে মানিক পশারীর দাফনেও যাইনি।’
মানিক পশারীর মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়ে ওঠা বিতর্কের বিষয়ে আহমেদ শহিদুল হক বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় সুন্দরবন এলাকায় নৌকায় করে শরণার্থী ও প্রশিক্ষণ নিতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের ভারতে পৌঁছে দেওয়ার কাজে যুক্ত ছিলেন মানিক পশারী। তার বড় ভাই শহীদ ফজলুল হক খোকন প্রথম মানিক পশারী ও তার চাচা রেয়াজ উদ্দিন পশারীকে এ কাজে নিয়োগ করেন। পরে সাব-সেক্টর কমান্ডার মেজর জিয়াউদ্দিনও তাদেরকে এ কাজ করার অনুরোধ জানান বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ১৯৮০ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা তৈরির সময় তিনি মানিক পশারীকে সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত করতে সহায়তা করেন। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সহযোগী মুক্তিযোদ্ধার শ্রেণি তুলে দিয়ে তাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত করা হয় বলে তিনি জানান।
মানিক পশারী প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা নন বলে কেউ দাবি করলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক না ছড়িয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তথ্যপ্রমাণসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করার আহ্বান জানান তিনি।
মানিক পশারীকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি করা এবং সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার কারণে আওয়ামী লীগ সরকার তাকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দিয়েছে—এমন বক্তব্যের বিষয়ে আহমেদ শহিদুল হক বলেন, এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া ব্যক্তিদের মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়েও তার প্রশ্ন রয়েছে। তাদের মধ্যে আব্দুস সালাম বাতেন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা বলে তিনি স্বীকার করেন। তবে মির্জা জহিরুল হক গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা নন, তার ভাই মুক্তিযোদ্ধা বলে দাবি করেন তিনি।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা বীর প্রতীক সোলাইমান মল্লিক, জেলা কমিটির সদস্য রাজ্জাক সরদার ও আব্দুল মান্নান ধরানী, সদর উপজেলা কমান্ডের আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ এবং সদস্যসচিব হাতেম আলী সরদারসহ অন্যরা।
মানববন্ধনে বক্তারা মানিক পশারীর গার্ড অব অনার ও দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগের নিন্দা জানান। তারা বলেন, মানিক পশারী গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা। তার মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়ে আপত্তি থাকলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক না ছড়িয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে তথ্যপ্রমাণসহ অভিযোগ জানানো উচিত।
কেএম