দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চলচ্চিত্র অভিনেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সোহেল রানা। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘এবার আর ক্ষমা নয়।’
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন সোহেল রানা।
পোস্টে তিনি লেখেন, ‘একাত্তরের রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা। তাকে কবর দেওয়ায় বাধা সৃষ্টি করল স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি। এবং হারিকেন জ্বালিয়ে তার আলোতে আলোকিত করে তার কন্যাসন্তান নিজ হাতে মাটি খুঁড়ে বাবার কবর তৈরি করল। আগের কবরটি স্বাধীনতার পরাজিত শত্রুরা মাটি দিয়ে ভরাট করে দিয়েছে।’
ঘটনায় সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এই অভিনেতা। তিনি লেখেন, ‘স্বাধীনতার স্বপক্ষীয় শক্তি নাকি বর্তমানে সরকার পরিচালনা করছে। কোনো আলামত তো দেখা গেল না। যারা বাধা দিয়েছিল তাদেরকে সর্বসমক্ষে গুলি করে হত্যা করা উচিত ছিল। সরকারের কাছে এর সঠিক জবাব চাই।’
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন সোহেল রানা। তাঁর ভাষ্য, ‘মুক্তিযোদ্ধারা তো জীবনের শেষ প্রান্তে। কিন্তু আমরা বোধহয় মুক্তিযুদ্ধের অগ্নিস্ফুলিঙ্গ পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে ব্যর্থ হয়েছি। নইলে প্রতিবাদ বা প্রতিরোধ কোনোটাই তো দৃষ্টিগোচর হচ্ছে না।’
পোস্টের শেষাংশে তিনি লেখেন, ‘না ফেরার দেশে চলে যাওয়ার আগে এমনি ধরনের সংবাদ আমার মতো অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধাদের রক্তক্ষরণ করে। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষীয় শক্তি সবাই জেগে ওঠো। এবার আর ক্ষমা নয়।’
এর আগে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত প্রয়াত দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে করা মামলার বাদী বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মৃত্যুর পর তাঁর দাফন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। অভিযোগ রয়েছে, দাফনে বাধা দেওয়ায় মৃত্যুর প্রায় ১৭ ঘণ্টা পর শনিবার গভীর রাতে পিরোজপুরে পরিবারের নারী সদস্যদের হাতে খোঁড়া কবরে তাঁকে দাফন করা হয়।
মানিক পশারীর দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ এবং এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
এমএম/