দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মাগুরা পৌর যুবদল নেতা শাকের হোসেন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রনি শিকদার ও শামীমা তাবাসসুম লুবনার পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। হত্যাকাণ্ডের কারণ উদ্ঘাটন এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করবে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে মাগুরার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দুই আসামিকে হাজির করে ১৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে বিচারক শান্তা ইসলাম প্রত্যেকের পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে তাঁদের মাগুরা সদর থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন আদালত।
মাগুরা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহেদ হাসান টগর জানান, শাকের হোসেন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে গ্রেপ্তার দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি। এ জন্য তাঁদের ১৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল। তবে শুনানি শেষে আদালত পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
তিনি আরও বলেন, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গত ২১ অক্টোবর ভোরে মাগুরা শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় রয়েল এক্সপ্রেস পরিবহনের কাউন্টারের ভেতর থেকে পৌর যুবদল নেতা শাকের হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রথমে তাঁর মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হলেও পরে মাথায় গুলির চিহ্ন পাওয়া যায়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে মাগুরা সদর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
পরে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে রনি শিকদার ও শামীমা তাবাসসুম লুবনাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গত ২২ অক্টোবর তাঁদের আদালতে হাজির করা হলে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের পর থেকে মাগুরায় প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। হত্যাকারীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন নিহতের স্বজন, এলাকাবাসী এবং বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
নিহতের স্ত্রী শারমিন আক্তারের দাবি, হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করতে হবে। একই সঙ্গে হত্যার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
এখন শাকের হোসেন হত্যার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন, জড়িতদের শনাক্ত এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী।
এমএস/