দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা ঢলে কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার, ধরলা ও তিস্তাসহ প্রধান প্রধান নদ-নদীর পানি বাড়ছে। কয়েক দিনের অব্যাহত পানি বৃদ্ধিতে এসব নদ-নদী অববাহিকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার বন্যা আশঙ্কা করছেন তীরবর্তী বাসিন্দারা। তিস্তার পানি বিপৎসীমা ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যার আশঙ্কা করছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বরাতে পাউবো জানায়, দেশে ও উজানে অতি ভারি বৃষ্টিপাতের ফলে ধরলা, দুধকুমার, ব্রহ্মপুত্র, গঙ্গাধর ও তিস্তাসহ ১৬টি নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তথ্য অনুযায়ী আগামী তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ধরলা নদী কুড়িগ্রাম সেতু পয়েন্টে, চিলমারী ব্রহ্মপুত্র পয়েন্টে এবং দুধকুমার নদ পাটেশ্বরী পয়েন্টে বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের দেয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী কুড়িগ্রাম পাউবো জানায় ২২-২৩আগস্ট থেকে নদ-নদীর পানি বাড়বে এবং ২৫-২৬আগস্ট ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপৎসীমায় পৌঁছাতে পারে। ফলে এ অঞ্চলে বন্যা হতে পারে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, শনিবার (২৬আগস্ট) সকাল ৯টায় তিস্তার পানি কাউনিয়া পয়েন্টে ২৯.১৬মিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৪১সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ব্রহ্মপুত্রের পানি নুনখাওয়া পয়েন্টে ২৫.৩৩ মিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৭২সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। চিলমারী পয়েন্টে ২২.৬৭মিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৫৮সেন্টিমটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ধরলা পয়েন্টে ২৫.০৮মিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৯৭সেন্টিমটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং দুধকুমার পাটেশ্বরী পয়েন্টে ২৯.১৮মিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৪২সেন্টিমটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
নাগেশ্বরী ও ভুরুঙ্গামারী উপজেলার দুধকুমার নদীর অববাহিকার কৃষক মজনু, সহিদুল, হাফিজুল ইসলাম, বাচ্চু মেম্বার ও আনোয়ার হোসেন জানান, দুধকুমার নদের পানি অনেক বৃদ্ধি পাচ্ছে। দুই দফা বন্যায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এলাকার মানুষ। ইতিমধ্যে নিন্ম অঞ্চল ও চরাঞ্চলে আমনের চারা রোপণ শেষ করেছি। তৃতীয় দফা বন্যায় ধানের চারা নষ্ট হলে পরিবার নিয়ে অনাহারে দিন কাটাতে হবে। বর্তমানে চরাঞ্চলের রোপণকৃত কৃষিজমি তলিয়ে যাচ্ছে এতে অপূরণীয় ক্ষতির শঙ্কায় আছি।
চর সবুজপাড়া গ্রামের লালবানু বেগম ও রশিদা বেগম বলেন পানি আবারও বাড়তাছে। ফের বান হইলে আমাগো বাইচা থাকা কঠিন হইব। কেমনে সামাল দেব সেটাই ভাইবা পাইতাছি না।’
এসব এলাকার কৃষকরা জানান, চরাঞ্চলে তাদের আমন আবাদ নষ্ট হচ্ছে। ফের বন্যা আসতেছে পানিতে ডুবে আমনের রোপণ করা ফসল নষ্ট হলে বাঁচার উপায় নাই। সহযোগিতা না পেলে তাদের ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব নয়।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্যাহ আল মামুন বলেন, কুড়িগ্রাম ভারি বৃষ্টিপাতের ফলে নদ-নদীর পানি বাড়ছে। তিস্তার পানি বিপৎসীমার উপর উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ জানান, বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। খাদ্য সহায়তা, বন্যার্তদের উদ্ধার এবং আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে।
জেবি