দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

একসময় অভাবের সংসার ছিল। বাবা-মা ও আট ভাইবোনের পরিবারে নিত্যদিনের টানাপোড়েন ঘোচাতে জীবনের ১৭টি বছর প্রবাসে কাটিয়েছেন মোসারেফ হোসেন। নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়ে উপার্জিত অর্থ পাঠিয়েছেন দেশে। সেই অর্থে কেনা হয়েছে জমি, নির্মিত হয়েছে আলিশান বাড়ি, গড়ে উঠেছে বিভিন্ন সম্পদ। অথচ দীর্ঘ প্রবাসজীবন শেষে দেশে ফিরে নিজের উপার্জনে গড়া বাড়িতেই থাকার জায়গা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। সম্পদের হিসাব চাওয়া ও বিয়েকে কেন্দ্র করে পরিবারের সঙ্গে বিরোধের সূত্রপাত বলে দাবি তার। এমনকি ১৬ লাখ টাকার একটি মামলায় আসামি হয়ে দুই দিন হাজতেও থাকতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন এই প্রবাসী।
মোসারেফ হোসেন ভোলার লালমোহন উপজেলার চরভূতা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বশিরউল্লা মুন্সি বাড়ির বাসিন্দা। তিন মাস আগে তিনি দেশে ফেরেন। জীবিকার সন্ধানে প্রথমে প্রায় নয় বছর ওমানে এবং পরে আট বছর কুয়েতে কাটান তিনি। তাঁর দাবি, দীর্ঘ ১৭ বছরে বাবা বশির উল্লাহ মুন্সি, মা মনোয়ারা বেগম ও দুই বোনের ব্যাংক হিসাবে প্রায় সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় কোটি টাকা পাঠিয়েছেন। তাঁর পাঠানো অর্থে জমি কেনা, বাড়ি নির্মাণ ও সোনার গয়নাসহ বিভিন্ন সম্পদ গড়ে তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর।
মোসারেফ বলেন, ‘প্রবাসে না খেয়ে, না ঘুমিয়ে পরিশ্রম করেছি শুধু পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য। স্বপ্ন ছিল দেশে ফিরে বাবা-মাকে নিয়ে সুখে-শান্তিতে থাকব। কিন্তু আজ নিজের উপার্জনে গড়া বাড়িতেই আমার ঠাঁই নেই। বাবা-মা ও দুই বোন আমাকে বাড়িতে ঢুকতে দিচ্ছেন না।’
তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিয়ের চেষ্টা করেও নানা কারণে বিয়ে হয়নি। অবশেষে গত ৩১ জুলাই ছুটিতে দেশে এসে বাবার সম্মতিতে বিয়ে করেন। এরপর থেকেই পরিবারের সঙ্গে বিরোধ বাড়তে থাকে বলে তাঁর অভিযোগ। দেশে ফিরে বাড়িতে প্রবেশ করতে গেলে বাধা ও মারধরের শিকার হন বলেও দাবি করেন তিনি। পরিবারের কাছে নিজের পাঠানো অর্থ, কেনা সম্পদ ও সোনার গয়নার হিসাব চাইলে বিরোধ আরও তীব্র হয়।
মোসারেফের অভিযোগ, নিজের কেনা ১৫ ভরি সোনার গয়নার মধ্য থেকে স্ত্রীকে দেওয়ার জন্য এক ভরি গয়না চাইলেও তা তাঁকে দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে ১৬ লাখ টাকার একটি মামলা করা হয়েছে। ওই মামলায় তাঁকে দুই দিন হাজতবাস করতে হয়েছে বলে দাবি তাঁর। ছোট বোনের বিয়ের জন্য বাবা জমি বিক্রি করতে চাইলে সেই জমি কিনে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। তবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ করেন।
সমস্যার সমাধানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, আত্মীয়স্বজন ও পুলিশের কাছে গিয়েও প্রত্যাশিত প্রতিকার পাননি বলে দাবি মোসারেফের। বর্তমানে নিজের বাড়িতে থাকতে না পেরে অন্যের বাড়িতে থাকতে হচ্ছে তাঁকে। তিনি বলেন, ‘আমার কোনো অন্যায় থাকলে সুষ্ঠু বিচার হোক। আর অন্যায় না করে থাকলে আমার উপার্জনে গড়ে তোলা সম্পদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পেতে চাই। আমি সরকারের সহযোগিতা চাই।’
স্থানীয় বাসিন্দা রাজিব হোসেন বলেন, মোসারেফের উপার্জনের টাকায় তাঁর পরিবারের সদস্যরা চলেছেন এবং গ্রামে আলিশান বাড়ি নির্মিত হয়েছে। তিনি চান, মোসারেফ ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বিরোধ মিটিয়ে একসঙ্গে বসবাস করুন।
এদিকে, মোসারেফের অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে তাঁর বাড়িতে গেলে পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এ বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, পারিবারিকভাবে বসে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হবে। লালমোহন সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সত্যজিৎ কুমার ঘোষ জানান, অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে বদলে যায় অসংখ্য পরিবারের ভাগ্য। অভাবের সংসারে ফেরে সচ্ছলতা, পূরণ হয় স্বপ্ন। কিন্তু সেই অর্থ ও সম্পদ ঘিরেই যখন আপনজনের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয়, তখন নিজের ঘরেই আশ্রয়হীন হওয়ার অভিযোগ ওঠে। মোসারেফের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে সম্পদ নিয়ে বিরোধের সুষ্ঠু সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ চান তিনি।
যে আই