দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় সাহেদ আহমেদ আশিক (৩৫) নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। তিনি বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা এলাকার রফিকুল ইসলাম মিঠুর ছেলে। তাঁর মৃত্যুর খবরে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তবে স্বামীর মৃত্যুর খবর এখনো নিশ্চিতভাবে জানেন না স্ত্রী কাকলী বেগম।
রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্যের বরাত দিয়ে সাহেদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তাইফুর রহমান।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেল আনুমানিক ৩টা ২০ মিনিটে রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩ এলাকায় একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এ ঘটনায় দুই বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হন। তাঁদের একজন বগুড়ার সাহেদ আহমেদ আশিক।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর ধরে সৌদি আরবে বসবাস করছিলেন সাহেদ। তাঁর বাবা রফিকুল ইসলামও সৌদি আরবে থাকেন। মা শাহেরা আক্তার ওমরাহ পালনের জন্য বর্তমানে সৌদি আরবে রয়েছেন। সাহেদের স্ত্রী ও দুই ছেলে সন্তান রয়েছে।
সাহেদের ভাই মাসুম রানা জানান, প্রায় এক মাসের ছুটি কাটিয়ে গত শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা হন তাঁর ভাই। রিয়াদ হয়ে তাঁর কর্মস্থল জেদ্দায় যাওয়ার কথা ছিল।
মাসুম রানা বলেন, রিয়াদে পৌঁছানোর পর ভাবির সঙ্গে ভাইয়ের সর্বশেষ কথা হয়। তখন সাহেদ জানিয়েছিলেন, তিনি রিয়াদে পৌঁছেছেন এবং সেখান থেকে জেদ্দায় যেতে আরও দেড় ঘণ্টার মতো সময় লাগবে। পরে ফোন করবেন বলেও জানিয়েছিলেন। কিন্তু এরপর থেকে তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ভাইয়ের কোনো খোঁজ না পেয়ে তাঁরা চরম দুশ্চিন্তায় ছিলেন। সরকারের কাছে সাহেদের বিষয়ে সঠিক তথ্য জানানো এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানান তিনি।
এদিকে স্বামীর ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন সাহেদের স্ত্রী কাকলী বেগম। তিনি জানান, তাঁর স্বামী দুই মাসের ছুটিতে বাড়িতে এসেছিলেন। কিন্তু সৌদি আরবে যুদ্ধের খবর শুনে চাকরি বাঁচাতে এক মাসের ছুটি শেষেই কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
কাকলী বেগম বলেন, তাঁর স্বামীই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তিনি সত্যিই মারা গিয়ে থাকলে দুই সন্তানকে নিয়ে তাঁদের চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে হবে। সৌদি আরবে থাকা শ্বশুর-শাশুড়ি ভালো থাকলেও স্বামীর বিষয়ে তাঁকে এখনো নিশ্চিত করে কিছু জানানো হয়নি বলে জানান তিনি।
মাদলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান জানান, দাপ্তরিকভাবে নিশ্চিত হওয়ার আগেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে সাহেদের মৃত্যুর খবর তাঁরা জানতে পেরেছেন। ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে যাওয়া মায়ের সঙ্গে সাহেদের দেখা করার কথা ছিল। কিন্তু সেই সাক্ষাৎ আর হলো না।
তিনি জানান, সাহেদের দুই ছেলের বয়স ৯ ও ৪ বছর। বাবাকে হারিয়ে তারা অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে সাহেদের পরিবার ও দুই সন্তানের পাশে দাঁড়ানোর জন্য মানবিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তাইফুর রহমান বলেন, এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো চিঠি পাওয়া যায়নি। তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে সাহেদের মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনি ইতিমধ্যে নিহতের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এ ঘটনায় বাকি আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের বরাতে রিয়াদের বিমানবন্দরে হুথিদের হামলার ঘটনায় বাংলাদেশিসহ মোট ১২ জন নিহত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে।
এমএস/