দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বগুড়ার গাবতলীতে শহীদ জিয়া মডেল কলেজে একাদশ ও ডিগ্রি শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া ৩০৩ শিক্ষার্থীর সব ভর্তি ব্যয় বহন করেছেন বগুড়া-৭ আসনের সংসদ সদস্য ও কলেজটির প্রতিষ্ঠাতা মোর্শেদ মিল্টন। জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ও কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি এম আর হাসান পলাশের উদ্যোগে দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য এ ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে অনলাইনে ভর্তি ফরম পূরণ থেকে শুরু করে একাডেমিক ভর্তি পর্যন্ত যাবতীয় খরচ দেওয়া হয়েছে সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে।
মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরোনোর পর কলেজে ভর্তি, বই কেনা ও যাতায়াতের খরচ নিয়ে অনেক দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের দুশ্চিন্তায় পড়তে হয়। এসব শিক্ষার্থীর পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পথ সহজ করতে গাবতলীর শহীদ জিয়া মডেল কলেজে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কলেজে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের কেউ কৃষকের সন্তান, কেউ দিনমজুর পরিবারের। আবার কেউ নিজের খরচে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে। আর্থিক সংকটের মধ্যেও উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখা এসব শিক্ষার্থীর জন্য কলেজে ভর্তির ব্যয় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ছাত্রদলের উদ্যোগ এবং সংসদ সদস্যের আর্থিক সহায়তায় সেই বাধা কিছুটা কমেছে।
বিনামূল্যে ভর্তির সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীরা জানান, তাঁদের সহপাঠীদের অনেকেই নিম্ন আয়ের পরিবারের সন্তান। মাধ্যমিক পাস করার পর কলেজে ভর্তি, নতুন বই কেনা ও যাতায়াতের খরচ বহন করা তাঁদের পরিবারের পক্ষে কঠিন ছিল। এমন পরিস্থিতিতে কলেজ কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সংসদ সদস্য তাঁদের পাশে দাঁড়ানোয় তাঁরা কৃতজ্ঞ।
কলেজের অধ্যক্ষ মোসা. জান্নাতুল ফেরদৌসি বেগম জানান, মাধ্যমিকের পর শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ করতে চলতি শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে প্রায় ২৫৫ জন এবং সম্প্রতি অনুমোদন পাওয়া ডিগ্রি শাখায় ৪৮ জন শিক্ষার্থী বিনামূল্যে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর এ উদ্যোগে কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সংসদ সদস্য মোর্শেদ মিল্টন এবং কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি এম আর হাসান পলাশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
তিনি আরও জানান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নামে প্রতিষ্ঠিত কলেজটির অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের যুগোপযোগী শিক্ষা নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি করা হয়। তবে প্রতিষ্ঠানটিতে এখনো পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, লাইব্রেরি ও ছাত্রীদের কমনরুমসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সুবিধার ঘাটতি রয়েছে। কলেজটির উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
জানা যায়, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মস্থান গাবতলীতে ১৯৯৯ সালে কলেজটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন বিএনপির তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, কলেজটি জাতীয়করণ করা হলে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার সুযোগও বাড়বে, উপকৃত হবে বৃহত্তর এলাকার শিক্ষার্থীরা।
কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এম আর হাসান পলাশ বলেন, গাবতলীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নামে প্রতিষ্ঠিত কলেজটিকে আর পিছিয়ে থাকতে দেওয়া হবে না। সবার সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম আরও এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, আর্থিক অসচ্ছলতা বা পারিবারিক প্রতিবন্ধকতার কারণে যেন কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর পড়াশোনা বন্ধ না হয়, সে লক্ষ্যেই তাঁরা কাজ করছেন। শিক্ষার্থীদের ভর্তি ব্যয়ের বিষয়টি সংসদ সদস্য মোর্শেদ মিল্টনের কাছে তুলে ধরার পর তিনি ব্যক্তিগত তহবিল থেকে প্রয়োজনীয় খরচ বহনের উদ্যোগ নেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতেও শিক্ষাক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
এমএস/