দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

লালমনিরহাটে স্ত্রী মিতু আক্তারকে পিটিয়ে হত্যার দায়ে স্বামী মো. আতিকুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে লালমনিরহাটের জেলা ও দায়রা জজ মো. হায়দার আলী এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলার এজাহার ও নথি থেকে জানা যায়, লালমনিরহাট সদর উপজেলার গোকুন্ডা ইউনিয়নের দাড়ারপাড় মুন্সিটারী এলাকার মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে আতিকুল ইসলামের সঙ্গে প্রায় দুই বছর আগে মিতু আক্তারের বিয়ে হয়। তাদের পাঁচ মাস বয়সী একটি কন্যাসন্তান ছিল। বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মিতুকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন আতিকুল।
২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর রাতে পারিবারিক কলহের জেরে মিতুকে গালিগালাজ করেন আতিকুল। পরে কাজের উদ্দেশ্যে পাবনা যেতে চাইলে মিতু বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আতিকুল প্রথমে মিতুর মাথা ও মুখে কিল-ঘুষি মারেন। পরে ঘরের উঠানে থাকা শক্ত প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেধড়ক মারধর করেন। এতে ঘটনাস্থলেই মিতুর মৃত্যু হয়। পরে আতিকুল বাড়ি থেকে পালিয়ে যান।
পরদিন ২১ সেপ্টেম্বর সকালে মিতুর পাঁচ মাস বয়সী শিশুসন্তানের কান্নার শব্দ শুনে প্রতিবেশীরা বাড়িতে গিয়ে বিছানায় মিতুর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে মিতুর বাবা মো. ইসলাম বাদী হয়ে লালমনিরহাট সদর থানায় হত্যা মামলা করেন।
তদন্ত শেষে পুলিশ আতিকুলের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ২০২৪ সালের ৪ জুলাই তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলায় ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে মঙ্গলবার রায় ঘোষণা করেন আদালত।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এপিপি অ্যাডভোকেট সামসুল আলম মিলন বলেন, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নথি পর্যালোচনা করে আদালত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেছেন। এ রায়ের মাধ্যমে অপরাধীদের কাছে কঠোর বার্তা যাবে।
তিনি জানান, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে। রায়ের বিরুদ্ধে আগামী সাত দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করার সুযোগ রয়েছে। রায়ে বাদীপক্ষও সন্তোষ প্রকাশ করেছে।
যে আই