দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বগুড়ায় শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের প্রস্তুতিমূলক সভায় সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতাদের বক্তব্যের সুযোগ না দেওয়াকে কেন্দ্র করে হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। একপর্যায়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সভা থেকে বেরিয়ে যান জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্যের অনুরোধে তারা আবার সভায় যোগ দেন।
সোমবার দুপুরে বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সকাল ১১টার দিকে শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভার আয়োজন করা হয়। জেলা প্রশাসনের ডাকে সভায় জেলার ১৩টি উপজেলার সনাতন ধর্মীয় প্রতিনিধি এবং পূজা উদযাপন পরিষদ ও ফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বগুড়া সদর আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা।
সভায় উপজেলা পর্যায়ের চার থেকে পাঁচজন পূজা উদযাপন কমিটির প্রতিনিধির বক্তব্য শোনার পর পূর্বনির্ধারিত অন্য একটি কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে আলোচনা সংক্ষেপ করার কথা জানান জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান। এরপর রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও জেলা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।
এ সময় উপস্থিত অনেক প্রতিনিধি নিজ নিজ এলাকার পূজা আয়োজনের সমস্যা ও বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একপর্যায়ে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি পরিমল চন্দ্র দাসসহ অন্য নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে হট্টগোল করেন এবং সভা বর্জন করে কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান।
পরে উত্তপ্ত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা। তার অনুরোধে পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা আবার সভায় ফিরে আসেন। তবে এরপর আর কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে ধুনট উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ বিকাশ চন্দ্র সাহা বলেন, তিনি কিছুক্ষণ বক্তব্য দিয়েছেন। তার আগে আরও তিন-চারজন প্রতিনিধি বক্তব্য দেন। এরপর বক্তব্য সংক্ষেপ করার কথা জানানো হলে বিষয়টি নিয়ে উপস্থিত সবাই অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
বগুড়া জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলর পরিমল চন্দ্র দাস বলেন, বছরে একটি দিন সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নেতারা জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পান। বিভিন্ন উপজেলা থেকে ৩০-৩৫ কিলোমিটার দূরত্ব পেরিয়ে প্রতিনিধিরা আসেন এবং তাদের নানা সমস্যা ও দাবি-দাওয়া থাকে। কিন্তু ওই বৈঠকে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, জেলা প্রশাসকের দাওয়াতেই তারা সভায় গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে কথা বলার সুযোগ না পেলে সভা করে লাভ কী। বিষয়টি খারাপ লাগায় তারা বেরিয়ে যান। পরে সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশার অনুরোধে আবার সভায় যোগ দেন।
হট্টগোলের বিষয়টি স্বীকার করে জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান বলেন, বৈঠকে পূজা উদযাপন কমিটির প্রতিনিধিদের কথা বলার পর্ব ছিল। তখন জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ কথা বলেননি। পরে শেষের দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধি বক্তব্য দেওয়ার সময় তারা কেন তাদের বক্তব্যের সুযোগ দেওয়া হয়নি, তা নিয়ে কথা বলেন। এ নিয়ে তারা মনঃক্ষুণ্ন হয়ে সভা থেকে উঠে চলে যান। পরে অবশ্য তারা আবার বৈঠকে যোগ দেন।
এমএস/