দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নে এক প্রতিবন্ধী শিশুর ভাতার বই হস্তান্তরের জন্য ২২ হাজার টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন সমাজকর্মী মো. মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই শিশুর বাবা আছাদুল ইসলাম।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর দেওয়া অভিযোগে আছাদুল ইসলাম উল্লেখ করেন, তিনি তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের ভাটরা গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর ছেলে মো. হামিম হাসান শারীরিক প্রতিবন্ধী।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, সরকারি বিধি অনুযায়ী ২০২২ সালে হামিম হাসানের নামে সুবর্ণ নাগরিক কার্ড নেন তাঁর বাবা। পরে প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য আবেদন করেন। তবে জীবিকার প্রয়োজনে কিছুদিন বিদেশে থাকায় তিনি ভাতার বই সংগ্রহ করতে পারেননি।
আছাদুল ইসলামের অভিযোগ, প্রায় পাঁচ মাস আগে দেশে ফিরে ভাতার বই নিতে সমাজসেবা কার্যালয়ে যোগাযোগ করেন তিনি। এ সময় ইউনিয়ন সমাজকর্মী মো. মনিরুজ্জামান ভাতার বই হস্তান্তরের বিনিময়ে তাঁর কাছে ২২ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সরকারি রেজিস্টারভুক্ত ভাতার বইটি দীর্ঘদিন ধরে আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগে আছাদুল ইসলাম আরও বলেন, প্রতিবন্ধী সন্তানের প্রাপ্য ভাতার বই পেতে তাঁকে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি দ্রুত ভাতার বই হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
আছাদুল ইসলাম বলেন, প্রতিবন্ধী সন্তানের ভাতার বই নিতে গিয়ে একজন সরকারি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীর কাছে এভাবে ঘুষের দাবি ও হয়রানির শিকার হবেন, তা কখনো ভাবেননি। তিনি বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত করে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ইউনিয়ন সমাজকর্মী মো. মনিরুজ্জামানের মুঠোফোনে কল করা হলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
তাড়াশ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. হাফিজ উদ্দিন বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। বৈধ ভাতাভোগীর ভাতার বই আটকে রাখার কোনো সুযোগ নেই। কেউ যদি তাঁর নাম ব্যবহার করে কারও কাছে টাকা দাবি করে থাকেন, এর দায় তাকেই বহন করতে হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিরাজগঞ্জ জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. হাবিবুর রহমান খান বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমএস/