দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পর্যটকদের আরও আকৃষ্ট করতে দীর্ঘ নয় বছর পর কুয়াকাটায় আয়োজন করা হচ্ছে বিচ কার্নিভাল বা কুয়াকাটা পর্যটন কার্নিভাল ২০২৬। দুই দিনব্যাপী এ আয়োজন ঘিরে কুয়াকাটাকে আধুনিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে পর্যটনসংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের আয়োজনে কুয়াকাটার পর্যটন হলিডে হোমসের সম্মেলনকক্ষে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকরা জানান, দীর্ঘ বিরতির পর আগামী ২৩ ও ২৪ অক্টোবর কুয়াকাটায় বিচ কার্নিভাল অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক ও পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের পরিচালক মো. গনী উল আজম।
সভায় জেলা পরিষদের প্রশাসক স্নেহাংশু সরকার কুট্টি, বরিশাল বিভাগীয় ডিআইজি ট্যুরিস্ট পুলিশ অর্নিবান চাকমা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসিন সাদেক, কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান, ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটার (টোয়াক) সেক্রেটারি জেনারেল আসাদুজ্জামান মিরাজসহ পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, হোটেল-মোটেল মালিক, উদ্যোক্তা ও স্থানীয় অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকরা জানান, কুয়াকাটার পর্যটন সম্ভাবনাকে দেশ-বিদেশে তুলে ধরা এবং পর্যটকদের কাছে এ অঞ্চলকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতেই এবারের কার্নিভালের আয়োজন। কার্নিভালকে কেন্দ্র করে সৈকত ও আশপাশের এলাকায় সাজসজ্জা, পরিচ্ছন্নতা ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
কার্নিভালে সৈকত ক্যাম্পিং, বিচ ফুটবল, কুইজ প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিচ উৎসব, পুঁথি পাঠ ও প্রি-ইভেন্টসহ নানা আয়োজন থাকবে। পাশাপাশি স্থানীয় পণ্য, খাবার ও পর্যটনকে ঘিরেও বিভিন্ন কর্মসূচি রাখা হয়েছে।
দীর্ঘ বিরতির পর বিচ কার্নিভাল আয়োজনকে ঘিরে স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীদের মধ্যেও উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, এ আয়োজনের মাধ্যমে কুয়াকাটায় পর্যটকের আগমন বাড়বে এবং স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায় গতি ফিরবে।
কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম মিরন বলেন, দীর্ঘ নয় বছর পর কুয়াকাটায় এমন একটি বিচ কার্নিভাল আয়োজন অত্যন্ত আনন্দের বিষয়। নিয়মিত এ ধরনের আয়োজন করা গেলে শুধু ছুটির দিন নয়, সারা বছরই কুয়াকাটায় পর্যটক ধরে রাখা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে পর্যটন অবকাঠামোর উন্নয়ন ও বিনোদনের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হলে কুয়াকাটা দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন গন্তব্য হিসেবে আরও এগিয়ে যাবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ বি এম মোশাররফ হোসেন বলেন, কুয়াকাটাকে শুধু একটি সমুদ্রসৈকত হিসেবে নয়, পূর্ণাঙ্গ পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। পর্যটকদের নিরাপত্তা, যোগাযোগব্যবস্থা, আবাসন, বিনোদন ও পরিবেশ সংরক্ষণে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, কুয়াকাটার পর্যটনশিল্পের বিকাশ হলে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান বাড়বে এবং এ অঞ্চলের অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে। এজন্য সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণ ও পর্যটন ব্যবসায়ীদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সমুদ্রসৈকত ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির কারণে কুয়াকাটাকে ঘিরে পর্যটকদের আগ্রহ দীর্ঘদিনের। এবারের পর্যটন কার্নিভালের মাধ্যমে সেই আকর্ষণ আরও বাড়বে বলে প্রত্যাশা করছেন আয়োজক ও সংশ্লিষ্টরা।
এমএস/