দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত ভূমিমালিকদের ন্যায্যমূল্য ও যথাযথ ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার দাবিতে হবিগঞ্জের মাধবপুরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে জেলার মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ভূমিমালিক, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন মাসুম বিল্লাহ, হাজী শফিকুল ইসলাম, শাওন মিয়া, হুমায়ুন আহমেদসহ অনেকে।
বক্তারা বলেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত হলে যোগাযোগব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসবে। তবে এ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ভূমি অধিগ্রহণের কারণে সাধারণ মানুষ যাতে ক্ষতির মুখে না পড়েন, সেদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিশেষ নজর দিতে হবে।
তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে থাকা জমি অধিগ্রহণের ফলে অনেক পরিবার বসতভিটা, কৃষিজমি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। তাই জমির প্রকৃত বাজারমূল্য বিবেচনায় নিয়ে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ ও তা দ্রুত পরিশোধের দাবি জানান তারা।
ক্ষতিগ্রস্ত ভূমিমালিকরা বলেন, উন্নয়নের স্বার্থে তারা মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণের উদ্যোগের বিরোধিতা করছেন না। তবে ন্যায্য অধিকার ও সম্পদের যথাযথ মূল্য নিশ্চিত করেই প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিতে হবে। অন্যথায় অনেক পরিবার আর্থিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
মানববন্ধন থেকে ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া দ্রুত পর্যালোচনা করে প্রকৃত বাজারমূল্যের ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবি জানানো হয়।
স্থানীয় ভূমিমালিকরা বলেন, সরকারের বৃহৎ এ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের স্বার্থকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। তারা যাতে জমির ন্যায্য মূল্য ও প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
জানা গেছে, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের মূল নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় ২০২১ সালে। এর আগে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে ভূমি অধিগ্রহণ ও আনুষঙ্গিক কাজ শুরু হয়। হবিগঞ্জসহ প্রকল্পের বিভিন্ন অংশে জমি অধিগ্রহণের জটিলতা ও কাজের ধীরগতি থাকলেও বর্তমানে সড়ক নির্মাণকাজ দ্রুত এগোচ্ছে। সর্বশেষ পরিকল্পনা অনুযায়ী, পুরো মহাসড়কের কাজ ২০২৯ সালের জুনের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
এ বিষয়ে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. জি এম সরফরাজ বলেন, জমি ও ঘরবাড়ির মূল্য নির্ধারণের মূল কাজটি করেছে সরকারের গণপূর্ত অধিদপ্তর (পিডব্লিউডি) ও সার্ভেয়ার। তারা মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়ার পর জেলা প্রশাসন ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধ করে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, যারা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে লেনদেনের চুক্তি করতে পেরেছেন, তারাই মূলত জমির অধিক মূল্য পাচ্ছেন। আর যারা সৎপথে জমির ন্যায্যমূল্য পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করেছেন, তাদের জমির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে তিন ভাগের একভাগ।
এমএস/