দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার কালকেওট গ্রামের চার কৃতী সন্তান বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করায় তাঁদের গণসংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কালকেওট কবরস্থান ও হাফিজিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন এলাকায় গ্রামবাসীর উদ্যোগে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সংবর্ধিত চারজন হলেন—১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় সিভিল জজ/সহকারী জজ হিসেবে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত মোস্তাফা আহমেদ শান্তু, ৪১তম বিসিএসের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সেলিম হোসেন, ৩৯তম বিসিএসের ডেন্টাল সার্জন ডা. শেখ মোর্শেদ জান্নাত মিথি এবং সমাজসেবা কর্মকর্তা হৃদয় হোসেন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, অভিভাবক, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী, তরুণ-যুবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, প্রত্যন্ত কালকেওট গ্রামের একের পর এক সন্তান বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করায় এলাকাবাসী আনন্দিত ও গর্বিত। তাঁদের সাফল্য নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উৎসাহিত করবে। আগামী দিনে গ্রামের আরও শিক্ষার্থী ভালো ফলাফল করে পরিবার, সমাজ ও দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তাঁরা।
বক্তারা আরও বলেন, এসব কৃতী সন্তান শুধু নিজেদের পরিবারের নয়, পুরো এলাকার জন্য সম্মানের কারণ। তাঁদের সাফল্যের পথ অনুসরণ করে নতুন প্রজন্মকে লক্ষ্য নির্ধারণ করে নিয়মিত পড়াশোনা ও পরিশ্রম করার আহ্বান জানান তাঁরা।
সংবর্ধিতদের মধ্যে মোস্তাফা আহমেদ শান্তুর সাফল্য বিশেষভাবে আলোচনায় আসে। জলঢাকার কালকেওট গ্রামের কৃষক পরিবারের সন্তান শান্তু ছোটবেলা থেকেই মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচিত। পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষায় সম্মিলিত মেধাতালিকায় ১৪তম স্থান অর্জনের পর এসএসসিতে গোল্ডেন এ প্লাস এবং উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে প্রথম স্থান অর্জন করেন তিনি।
পরবর্তীতে আইন বিষয়ে পড়ার লক্ষ্য নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন শান্তু। সেখানে অনার্সে প্রথম শ্রেণিতে দ্বিতীয় এবং মাস্টার্সে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন।
বিচারক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেন তিনি। ১৭তম বিজেএস পরীক্ষায় সফল না হলেও হাল ছাড়েননি। ১৮তম বিজেএস পরীক্ষার প্রিলিমিনারির মাত্র ২০ দিন আগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলেও অসুস্থতার মধ্যেই পরীক্ষায় অংশ নেন। পরে সব ধাপ সফলভাবে অতিক্রম করে ১৮তম বিজেএস পরীক্ষায় সিভিল জজ/সহকারী জজ হিসেবে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত হন।
শান্তুর প্রস্তুতির অন্যতম দিক ছিল প্রতিদিন ও মাসভিত্তিক পড়াশোনার লক্ষ্য নির্ধারণ, নিয়মিত অনুশীলন ও রিভিশন। আইন শিক্ষার্থীদের আইন শুধু মুখস্থ না করে বুঝে পড়া, Bare Act-কে গুরুত্ব দেওয়া, নিজের হাতে হ্যান্ডনোট তৈরি এবং নিয়মিত রিভিশনের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, কৃষক পরিবারের সন্তান হিসেবে শান্তুর এ অর্জন গ্রামের শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার। একইভাবে ডা. সেলিম হোসেন, ডা. শেখ মোর্শেদ জান্নাত মিথি ও সমাজসেবা কর্মকর্তা হৃদয় হোসেনের সাফল্যও কালকেওট গ্রামের জন্য গর্বের বিষয়।
তাঁদের সাফল্যকে সম্মান জানিয়ে আয়োজিত এ গণসংবর্ধনার মধ্য দিয়ে এলাকাবাসী কৃতী সন্তানদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। ভবিষ্যতে তাঁরা নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে দেশ ও মানুষের কল্যাণে অবদান রাখবেন—এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তাঁরা।
এমএস/