দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বাজারে নতুন আলুর চড়া দামের আশায় নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় আগাম আলু চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। শীত আসার আগেই নতুন আলু বাজারে তুলে ভালো দাম পাওয়ার প্রত্যাশায় আমন ধান কাটার পরপরই উঁচু জমিতে আলু রোপণ শুরু করেছেন তারা।
গত মৌসুমে আলুর দাম কম থাকায় লোকসান গুনতে হয়েছে অনেক কৃষককে। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবার অনুকূল আবহাওয়া, তুলনামূলক কম বীজের দাম ও সারের স্বাভাবিক সরবরাহকে কাজে লাগিয়ে আগেভাগেই মাঠে নেমেছেন কৃষকেরা।
কৃষিনির্ভর জেলা নীলফামারীর উর্বর দোআঁশ ও বেলে দোআঁশ মাটিতে নানা ধরনের ফসল উৎপাদিত হয়। তবে কিশোরগঞ্জ উপজেলা দীর্ঘদিন ধরেই আগাম আলু চাষের জন্য পরিচিত। এ অঞ্চলের কৃষকেরা শীতের আগেই আলু বাজারে তুলে তুলনামূলক বেশি দামে বিক্রির চেষ্টা করেন।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগাম আলু প্রতি কেজি ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে পারে। স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় সেভেন জাতের আলু রোপণের ৫০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যেই তোলা যায়। বাজারে নতুন আলুর চাহিদা ও দাম তুলনামূলক বেশি থাকায় আগাম আলু চাষে কৃষকদের আগ্রহও বাড়ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলায় বাহাগিলী, নিতাই, পুটিমারী, গাড়াগ্রাম ও রণচন্ডীসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠে আগাম আমন ধান কাটার পরপরই জমি প্রস্তুত করে আলু রোপণ করছেন কৃষকেরা। কেউ আলু রোপণ শেষ করেছেন, আবার কেউ জমি প্রস্তুত করছেন। ফলে মাঠে বেড়েছে কৃষক ও কৃষিশ্রমিকদের ব্যস্ততা। বেড়েছে শ্রমিকের চাহিদা ও মজুরিও।
কিশোরগঞ্জ উপজেলার বাহাগিলী ইউনিয়নের উত্তর দুরাকুটি পশ্চিমপাড়া গ্রামের কৃষক সাইয়েদুর ইসলাম বলেন, আমি এবার ৭০ শতাংশ জমিতে আগাম আলু রোপণ করছি। জমি ইজারা, হালচাষ, শ্রমিক ও কৃষি উপকরণসহ আলু তোলা পর্যন্ত প্রায় ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা খরচ হতে পারে। বাজারদর ভালো থাকলে প্রতি কেজি আলু ৯০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে পারে।
একই এলাকার কৃষক সাইদুল ইসলাম বলেন, গত বছর বিঘাপ্রতি বেশ লোকসান হয়েছে। এবার সেই লোকসানের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আগাম আলু চাষ করছি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ভালো ফলন ও চড়া দাম পাওয়ার আশা করছি।
পুটিমারী ইউনিয়নের কৃষক মনছুর আলী বলেন, প্রতি বছরই আমাদের উপজেলায় আগাম আলু চাষ হয়। আমি এবার দুই বিঘা জমিতে আলু রোপণ করেছি। হিমাগার থেকে আলু এনে বীজ হিসেবে ব্যবহার করেছি। খরচ কিছুটা বেশি হয়েছে। তবে ভালো দাম পেলে লাভ হবে।
এবিষয়ে কিশোরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লোকমান আলম বলেন, চলতি মৌসুমে কিশোরগঞ্জ উপজেলায় ৪ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে আগাম আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে কৃষি বিভাগ কাজ করছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষকেরা ভালো বাজারদর পেয়ে লাভবান হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
কে