দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সাতক্ষীরার কলারোয়ায় পূর্ববিরোধ ও একটি মামলায় সাক্ষী হওয়াকে কেন্দ্র করে একই পরিবারের পাঁচজনকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মহাসিন আলী (৪০), তার ভাই, চাচাতো ভাই, বোনাই ও ভাগ্নে আহত হয়েছেন। তাদের সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে কলারোয়া উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা বাজারে আনন্দ জুয়েলার্সের সামনে কালভার্টের মুখে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় মহাসিন আলী বাদী হয়ে কলারোয়া থানায় আটজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। আহতরা বর্তমানে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, পূর্ববিরোধের জেরে সজিব হোসেন, শামিম রেজা, শাহিন হোসেন, সাঈদ, হুমায়ুন হোসেন, দেলোয়ার হোসেন, তবিবুর রহমান ও ইসাহাকসহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহাসিন আলীর ওপর হামলা করেন। এ সময় তাকে কুড়াল, লোহার রড, শাবল ও ইট দিয়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। এতে তার মাথায় কাটা-রক্তাক্ত জখম এবং বাঁ হাতের আঙুলে হাড়ভাঙার জখম হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মহাসিন আলীর অভিযোগ, তাকে মারধরের সময় তার ভাই শাহিনুর রহমান এগিয়ে এলে তাকেও কুড়াল ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়। পরে চাচাতো ভাই আশরাফ আলী, বোনাই তৌহিদুল ইসলাম ও ভাগ্নে অলিউল্লাহ এগিয়ে এলে তাদের ওপরও হামলা করা হয়। এতে তাদের মাথা, হাত, পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
মহাসিন আলী বলেন, তাদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করেন। এ সময় অভিযুক্তরা খুন-জখমের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ভুক্তভোগী শাহিনুর রহমান বলেন, স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে তাদের আগে থেকেই বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি একটি মামলায় সাক্ষী হওয়াকে কেন্দ্র করেও তাদের চাপ ও হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
মহাসিন আলী বলেন, তার ভাগনেকে মারধরের ঘটনা নিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তারা তাদের ওপর হামলা করেন। তার দাবি, হামলার সময় তাকে ও তার স্বজনদের মাথায় আঘাত করা হয় এবং তাদের হুমকি দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী তৌহিদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, অভিযুক্তদের কয়েকজন আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বর্তমানে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত বলে পরিচয় দিচ্ছেন। তাদের রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তারেরও অভিযোগ করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযুক্তদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমএস/