দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাত বছরের শিশু মাহিদা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় গ্রেপ্তার তার চাচা জাহিদুল ইসলামের (২০) পক্ষে কোনো ধরনের আইনি সহায়তা না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জেলা আইনজীবী সমিতি। একই সঙ্গে দ্রুত মামলার বিচার সম্পন্নে আইনজীবীরা সহযোগিতা করবেন বলে জানিয়েছেন সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ মফিজুর রহমান বাবুল।
রোববার দুপুরে তিনি এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, মাহিদাকে ধর্ষণ ও হত্যার মতো নৃশংস ঘটনার সঙ্গে জড়িত আসামির পক্ষে কোনো আইনজীবী দাঁড়াবেন না। বরং শিশুটির ধর্ষণ ও হত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্নে আইনজীবীরা কাজ করবেন।
এর আগে নিহত মাহিদার মা মনিরা আক্তারসহ পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা জেলা আইনজীবী সমিতিতে গিয়ে জাহিদুলের পক্ষে মামলা পরিচালনা না করার জন্য লিখিত অনুরোধ জানান। পরে মাহিদার স্বজন ও বিক্ষোভকারীরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালত চত্বরে বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে জাহিদুলের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে স্লোগান দেন।
এদিকে মাহিদা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার জাহিদুল ইসলাম ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। শনিবার সন্ধ্যায় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের পঞ্চম আদালতে তিনি জবানবন্দি দেন। সেখানে তিনি মাহিদাকে ধর্ষণের পর বালিশচাপা ও গলা টিপে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতের কোর্ট পরিদর্শক মো. হাবিবুল্লাহ সরকার জানান, ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি শেষে জাহিদুল ইসলামকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার দুপুরে পানি খাওয়ানোর কথা বলে জাহিদুল মাহিদাকে একটি বসতঘরে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে মাহিদার মা মনিরা বেগম মেয়েকে খুঁজতে গিয়ে জাহিদুলের ঘরে তাকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান।
এ সময় তার চিৎকারে স্থানীয়রা সেখানে জড়ো হয়ে মাহিদাকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর স্থানীয়রা জাহিদুলকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
এমএস/