দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের চরচারতলা সিরাজুল ইসলাম মোল্লা ফাজিল (ডিগ্রী) মাদরাসা। এক সময় যার নামকরণ ছিলো কেবল গ্রামের নাম চরচারতলা দিয়ে। অথচ এই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর পারিবারিক সম্পত্তি হয়ে উঠে মাদ্রাসাটি। মাদ্রাসা অধ্যক্ষ মহিউদ্দিন মোল্লা বাধার মুখেও প্রতিষ্ঠানটির নাম বদলে গ্রামের নামের সঙ্গে যোগ করলেন প্রয়াত বাবা সিরাজুল ইসলাম মোল্লার নাম। শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন মেয়ে, ভাতিজা ও বোন জামাইকে।
২০২২ সাল থেকে নতুন নামকরণ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রায় দুইবছর ধরে নতুন নামেই সব কার্যক্রম চলছে। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়।
অধ্যক্ষের বাহাদুরির এখানেই শেষ নয়। বাবার নামে মাজার করেছেন মাদরাসার অভ্যন্তরেই। বিদ্যালয়ের নামে থাকা পাঁচ শতক ভূমি নিয়েও ছলচাতুরির অভিযোগ আছে ওই অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ উপজেলার চরচারতলা গ্রামে মাদরাসাটির অবস্থান। বর্তমানে মাদরাসায় প্রায় ৭০০ শিক্ষার্থী রয়েছে।
বিভিন্ন অভিযোগ, তদন্ত প্রতিবেদন ঘেঁটে ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৯৯ সালে মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। মজিবুর রহমান নামে এক ব্যক্তি স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে উদ্যোগি হয়ে মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন। পর্যায়ক্রমে এটি দাখিল থেকে ফাজিলে উন্নীত হয় এবং এমপিওভুক্ত হয়।

বিভিন্ন দপ্তরে মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সাবেক বিদ্যোৎসাহী সদস্য মো. সফিকুর রহমানের করা একাধিক অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, প্রতিষ্ঠাকালীন সময় নিয়োগ পাওয়ার সময়ই ছলচাতুরির আশ্রয় নেন মো. মহিউদ্দিন মোল্লা। তিনি তৃতীয় বিভাগ পাওয়া সার্টিফিকেটকে দ্বিতীয় বিভাগ বানিয়ে জমা দিয়ে চাকরি নেন। জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করে মাদরাসার নাম পরিবর্তন করেন। মাদরাসার একটি জায়গা অধিগ্রহণ হলেও এর টাকা তিনি জমা দেননি। নিজের বাবার নামে মাজার করেছেন মাদরাসার অভ্যন্তরেই।
কথা হয় এলাকার সাতজন ব্যক্তির সঙ্গে। তাদের প্রত্যেক্যের অভিযোগ, অধ্যক্ষের স্বেচ্ছাচারিতা চলছে মাদরাসাকে ঘিরে। নাম পরিবর্তনের বিষয়ে এলাকাবাসীর মতামত নেওয়া হয়নি। শুধু তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের প্রত্যয়নপত্রকে জনগণের ম্যান্ডেট উল্লেখ করে মিথ্যার আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।
এলাকার লোকজন অভিযোগ করেন, মাদরাসার মধ্যেই বাবার নামে মাজার করেছেন অধ্যক্ষ। খুব চতুরতার সঙ্গে নিজেদের দেওয়া ভূমি অধিগ্রহনের টাকার বিষয়টি এরিয়ে গেছেন। মাদরাসার ভূমি অধিগ্রহনের আওতায় পড়লে এখন তিনি অন্য একটি জায়গাকে মাদরাসার বলছেন। মাদরাসাকে যেন তিনি নিজস্ব সম্পত্তি বানিয়ে ফেলেছেন।

কাগজপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের তদন্তে সার্টিফিকেট নিয়ে ছলচাতুরির অভিযোগের সত্যতার কথা উল্লেখ করা হয়। জেলা প্রশাসনের তদন্তে বলা হয়, এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। মাদরাসার নাম নিয়ে আদালত এক আদেশে স্থিতাবস্থা দেন। আরেক আদেশে অভিযোগটি ‘নিষ্পত্তির‘ কথা উল্লেখ করা হয়। ভূমি অধিগ্রহনের টাকা আত্মসাতের বিষয়টি এখনো তদন্তনাধীন অবস্থায় রয়েছে।
এসব বিষয় নিয়ে কথা হয় অধ্যক্ষ মো. মহিউদ্দিন মোল্লার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করা হচ্ছে। আমি নিয়ম মেনে কাগজপত্র দিয়েই চাকরি পেয়েছি। একটি পরীক্ষায় তৃতীয় বিভাগ পাওয়ার বিষয়টি সত্য এবং আমি ওই সার্টিফিকেট জমা দিয়েই চাকুরি নিয়েছি। অভিযোগকারি দ্বিতীয় বিভাগের সার্টিফিকেট বানিয়ে অভিযোগ করে হয়রানি করছে। অভিযোগকারি সফিকুর রহমানের সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক থাকলেও তিনি কেন এসব করছেন জানি না।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,‘একজন গুণি মানুষ হিসেবে এলাকার মানুষের চাওয়া মোতাবেক আমার বাবার নামে মাদরাসাটির নতুন নামকরণ হয়। সঙ্গে গ্রামের নামও যুক্ত আছে। মাদরাসার পাশে যে মাজার আছে সেটিও গ্রামের মানুষই করেছে। অধিগ্রহনের যে টাকার কথা বলা হচ্ছে সেটাও মিথ্যা। কারণ আমার বাবা মাদরাসাকে যে পাঁচশতক জমি দান করেছেন সেটি মাদরাসার পাশেই আছে। আমাদের যে সম্পত্তি অধিগ্রহন হয়েছে সেটার টাকার আমরা নিয়েছি।’ মেয়ে, ভাতিজা ও বোন জামাইয়ের চাকরি নিয়ম মেনেই হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো: আবু তালেব বলেন, অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
কে