দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বঙ্গোপসাগর, সুন্দরবন আর তিনটি খরস্রোতা নদী ঘেরা বরগুনা। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ভরপুর এই জেলায় পর্যটনের রয়েছে বিপুল সম্ভাবনা। তবে যথাযথ সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে সেই সম্ভাবনা এখনো পূর্ণতা পায়নি। দীর্ঘদিনেও গড়ে ওঠেনি পর্যটকবান্ধব পূর্ণাঙ্গ পর্যটনকেন্দ্র।

বিষখালী, বলেশ্বর ও পায়রা দেশের অন্যতম তিনটি প্রধান খরস্রোতা নদী। নদীগুলো যেখানে সাগরে মিশেছে, ঠিক সেখানেই বরগুনার অবস্থান। একদিকে বঙ্গোপসাগর, অন্যদিকে সুন্দরবন। মাঝখানে ছড়িয়ে থাকা ছোট ছোট স্নিগ্ধ বন জেলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে আরও বৈচিত্র্যময় করে তুলেছে।
পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা এবং দীর্ঘদিনের বেসরকারি উদ্যোগের ঘাটতির কারণে এখানে এখনো পর্যটকদের জন্য পূর্ণাঙ্গ ও পরিকল্পিত পর্যটনকেন্দ্র গড়ে ওঠেনি।

তবে ধীরে ধীরে পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে জেলার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান। তালতলীর টেংরাগিরি ইকোপার্ক ও সোনাকাটা সমুদ্রসৈকত, শুভ সন্ধ্যা সমুদ্রসৈকত, পাথরঘাটার হরিণঘাটা ইকোপার্ক, লালদিয়া বন ও চর এবং বিহঙ্গ দ্বীপে প্রকৃতির টানে ছুটে আসছেন পর্যটকেরা।
এ ছাড়া বরগুনা সদরের মোহনা পর্যটন কেন্দ্র ও পালের বালিয়াতলী, সুরঞ্জনা ইকো ট্যুরিজম, রাখাইন বৌদ্ধ বিহার, ফাতরার চর, সোনারচর, আশারচর, নলবুনিয়া ও কাকচিঁড়ার উপকূলীয় এলাকাও প্রকৃতিপ্রেমীদের আকৃষ্ট করছে।
পর্যটনসংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এসব পর্যটনকেন্দ্রে যাতায়াতব্যবস্থার উন্নয়ন, নিরাপদ পরিবহন, পরিচ্ছন্ন খাবারের ব্যবস্থা, মানসম্মত শৌচাগার, বিশ্রামাগার ও জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা গেলে পরিকল্পিতভাবে পর্যটনশিল্পের বিকাশ ঘটানো সম্ভব।
পর্যটনের উন্নয়ন হলে স্থানীয় অর্থনীতিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। পর্যটকদের যাতায়াত, আবাসন, খাবার, নৌভ্রমণ ও স্থানীয় পণ্য বিক্রিকে কেন্দ্র করে তৈরি হতে পারে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ। বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকার তরুণ-তরুণী, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা পর্যটননির্ভর বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন।
/অ