দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যশোরে অন্য একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে শারীরিক পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে যাওয়ায় আসমা চৌধুরী (৪৮) নামে এক নারী রোগীর সঙ্গে অশোভন আচরণ, হুমকি-ধমকি এবং রিপোর্টের ফাইল মুখের ওপর ছুড়ে মারার অভিযোগ উঠেছে এক জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. মো. আকমত আলী (দিপু) ঢাকা আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক এবং যশোরের কুইন্স হাসপাতাল প্রাইভেট লিমিটেডের চেম্বার চিকিৎসক। এ ঘটনায় বিচার ও আইনি ব্যবস্থা চেয়ে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, গত ১০ সেপ্টেম্বর অসুস্থতার কারণে যশোরের কুইন্স হাসপাতালে অধ্যাপক ডা. মো. আকমত আলীর কাছে চিকিৎসা নিতে যান পুরাতন কসবা এলাকার বাসিন্দা আসমা চৌধুরী। এ সময় চিকিৎসক ৭০০ টাকা ফি নিয়ে তাকে চিকিৎসা ও কয়েকটি শারীরিক পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেন।
অভিযোগকারী জানান, নারী হওয়ায় পরীক্ষাগুলো মহিলা চিকিৎসকের মাধ্যমে করাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তিনি। এ কারণে কুইন্স হাসপাতালে পরীক্ষা না করিয়ে পাশের ইবনে সিনা হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে মহিলা চিকিৎসকের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও এন্ডোস্কপি করান।
পরে গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে পুনরায় ডা. আকমত আলীর চেম্বারে যান তিনি। অভিযোগ, অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে কেন পরীক্ষা ও এন্ডোস্কপি করানো হয়েছে—এ নিয়ে চিকিৎসক ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তিনি উগ্র আচরণ ও হুমকি-ধমকি দেন এবং রিপোর্টগুলো ভুল দাবি করে ফাইলটি তাঁর মুখের ওপর ছুড়ে মারেন।
আসমা চৌধুরী নিজেকে হৃদরোগী উল্লেখ করে অভিযোগে বলেন, চিকিৎসকের এমন আচরণে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থারও অবনতি ঘটে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, অন্য চিকিৎসকেরা রিপোর্ট দেখার জন্য অতিরিক্ত ফি না নিলেও ডা. আকমত আলী পুনরায় তাঁর কাছ থেকে ৭০০ টাকা ফি নেন। একই সঙ্গে রিপোর্টগুলো বাতিল বলে কুইন্স হাসপাতাল থেকেই পুনরায় পরীক্ষা করানোর নির্দেশ দেন।
চিকিৎসকের এমন আচরণের প্রতিকার ও যথাযথ আইনি ব্যবস্থা চেয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে লিখিত আবেদন করেন আসমা চৌধুরী। সরকারি ছুটির কারণে সিভিল সার্জন ও বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলে (বিএমডিসি) অভিযোগ করতে পারেননি জানিয়ে তিনি বলেন, রোববার সিভিল সার্জন ও বিএমডিসিতে লিখিত অভিযোগ করবেন।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. মো. আকমত আলীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি রোগী দেখছেন জানিয়ে কথা বলতে রাজি হননি।
এদিকে অভিযোগটি আমলে নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আল আমিন বলেন, অভিযোগটি স্পর্শকাতর হওয়ায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমএস/