দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ঈদের ছুটিতে রাজধানী ফাঁকা। এ সুযোগে কেউ যেন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে না পারে, সেজন্য সতর্ক অবস্থানে আছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আজ শুক্রবার (৩০ জুন) ঢাকা শহর অনেকটাই ফাঁকা হয়ে গেছে।
শুক্রবার (৩০ জুন) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জানান, ঈদকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বাসিন্দারা গ্রামে চলে যান। এ সময় সস্ত্রাস, মাদক, চাঁদাবাজি, জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ডসহ সকল ধরনের অপরাধ দমনে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করছে ঢাকা মহানগর পুলিশ।
জানা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা, ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সারা দেশে মুসলমানদের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে গত ২৫ জুন থেকে রাজধানীর বাসিন্দারা গ্রামে যাওয়া শুরু করেন। গতকাল পর্যন্ত অনেকেই ঈদের আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করতে গ্রামে অবস্থান করেন। ফলে রাজধানীর একটি বড় অংশ পরিবার-পরিজন নিয়ে চলে গেছেন গ্রামের বাড়িতে। এ কারণেই ব্যস্ততম ঢাকা নগরী এখন ফাঁকা হয়ে গেছে।
রাজধানীর গুলিস্তান, টিকাটুলি, কারওয়ান বাজার, মগবাজার, ফার্মগেট, পান্থপথ, কাকলাইল, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, মানুষের আনাগোনা একদম কম। এছাড়াও পাড়া-মহল্লার দোকান-পাটগুলো রয়েছে বন্ধ। ঈদের জন্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে বাড়ি চলে গেছেন অনেকেই।
কারওয়ান বাজারের বাসিন্দা মাসুদ বলেন, আমি দীর্ঘ দিন থেকে ঢাকা থেকে একটি বাসায় কাজ করি। আমাদের বিল্ডিংয়ে ১৪টি পরিবার বসবাস করেন। তাদের মধ্যে বেশির ভাগ পরিবার বাড়ি চলে গেছেন।
কথা হয় কারওয়ান বাজার এলাকায় সুমন তালুকদার নামের একজনের সাথে। তিনি পেশায় মুচি। তিনি বলেন, সকাল থেকে আমি দোকান খুলে বসে আছি। কোনো ইনকাম নেই।
কেন এমন অবস্থা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঈদের জন্য এলাকার অনেকেই গ্রামে চলে গেছে। আর যারা ঢাকায় রয়েছে; তাদের অফিস বন্ধ। তাই তারা বাসা থেকে বের হচ্ছে না।
রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকাগুলোর মধ্যে একটি এলাকা হলো ফার্মগেট। ছুটির দিন ছাড়া ওই এলাকায় লোকজনের আনাগোনা সবচেয়ে বেশি থাকে। কিন্তু সেই এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, আগের মতো কোনো ব্যস্ততা নেই সেখানে। হাতেগোনা কয়েকজন বাসের জন্য অপেক্ষা করছে।
এদিকে, ঈদে ফাঁকা ঢাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। বিশেষ করে রাজধানীর গুলশান, বনানী, বারিধারা মিলিয়ে কূটনৈতিক এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন র্যাব-১ এর অধিনায়ক লেফটেনঢান্ট কর্নেল মো. মোসতাক আহমেদ।
তিনি বলেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঢাকায় অবস্থানরত সম্মানিত নাগরিক এবং কূটনৈতিক এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। অভিজাত এলাকায় চেক পোস্ট বসানো হয়েছে। এছাড়া অভিজাত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-কমিশনার মো. ফারুক হোসেন বলেন, আমাদের পবিত্র দায়িত্ব ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাত্রা এবং ঈদের ছুটিতে ঢাকা মহানগরে যারা থাকবে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এসব বিষয় সামনে রেখেই রাজধানীকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে রাখা হয়েছে।