দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যশোরে চলতি মৌসুমে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। শনিবার (২০ এপ্রিল) দুপুর ৩টায় যশোর বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান বিমান ঘাঁটির আবহাওয়া দপ্তর এ তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে।
এক সপ্তাহ ধরেই খুলনা বিভাগের ওপর দিয়ে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে যশোর ও চুয়াডাঙ্গা জেলায় চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বিরাজ করছে। প্রতিদিনই তাপমাত্রা এক ডিগ্রি করে বাড়ছে।
গত বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) যশোর ও চুয়াডাঙ্গা জেলায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। গতকাল শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) যশোরে তাপমাত্রা বেড়ে দাঁড়ায় ৪১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন চুয়াডাঙ্গায় রেকর্ড করা হয় ৪১ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা।
এদিকে আজ শনিবার (২০ এপ্রিল) যশোরে তাপমাত্রা আরও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। আর চুয়াডাঙ্গায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এদিকে গরমে নাকাল হয়ে পড়েছে জনজীবন। শ্রমজীবী মানুষেরা রয়েছেন চরম ভোগান্তিতে। প্রচণ্ড গরমে গলে যাচ্ছে শহরের বেশ কয়েকটি সড়কের পিচ। এরই মধ্যে প্রখর রোদ উপেক্ষা করেই যাত্রী বয়ে নিয়ে যাচ্ছেন রিকশাচালকরা।
সূর্যের তাপ এতই বেশি যে, খোলা আকাশের নিচে হাঁটলেও গরম বাতাস লাগছে চোখে-মুখে। যাত্রাপথে ছাতা মাথায় দিয়ে তাপ থেকে বাঁচার চেষ্টা করছেন অনেকেই। স্বস্তি পেতে শ্রমজীবী মানুষজন রাস্তার পাশে ছায়ায় বিশ্রাম নিচ্ছেন।
আবার কেউ কেউ হাতে মুখে ঠান্ডা পানি দিয়ে স্বস্তি পাওয়ার চেষ্টা করছেন। আর শিশু-কিশোররা গরম থেকে রেহাই পেতে পুকুর-নদীতে জলকেলিতে মেতেছে।
যশোর শহরের রিকশা চালক মফিজুর রহমান বলেন, মানুষ বাইরে কম বের হচ্ছে। যারা বাইরে আসছে গরমের সঙ্গে তাদেরও মেজাজ গরম থাকছে। মানুষের সঙ্গে ভালো করে কথা বলা যাচ্ছে না। এদিকে, গরমে পরিবহনে চলাচল কম করায় যাত্রীরাও নিদারুণ কষ্টে যাতায়াত করছেন।
শহরের শংকরপুর এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম জানান, বাসার ছাদের রিজার্ভ ট্যাংকের পানি অনেক গরম হয়ে যাচ্ছে। দুপুর ১২টা থেকে বিকেল পর্যন্ত পানিতে হাত দেওয়া যাচ্ছে না।
শরবত বিক্রেতা কালাম হোসেন জানান, গরম বাড়ায় তাদের শরবত বিক্রি বেড়েছে। মানুষ পিপাসা মেটাতে ও একটু স্বস্তি নিতে ঠান্ডা লেবুর শরবত পান করছেন।
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, তাপদাহ আরও কয়েকদিন বিরাজ করবে। সেইসঙ্গে বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেশি হওয়ায় অস্বস্তি বাড়বে।
এদিকে, তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে পানি সংকটে পড়েছে শহরের বাসিন্দা। তারা বলছেন, যে টিউবওয়েলে সহসা পানি আসতো, সেই টিউবওয়েলে অকেজ হয়ে পড়ে আছে।
শহরের রেলগেট এলাকার বাসিন্দা আল আমিন বলেন, টিউবওয়েলে পানি পাওয়া যাচ্ছে না, যা উঠছে তার সঙ্গে আয়রণ উঠছে। ফলে পানি পান করা যাচ্ছে না।
গ্রীন ওয়ার্ন্ড এনভাইরনমেন্ট ফাউন্ডেশন যশোরের নির্বাহী পরিচালক আশিক মাহমুদ সবুজ বলেন, যশোরে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার বেড়েই চলেছে। পুকুর-জলাশয় ভরাট এবং অপরিকল্পিতভাবে গভীর ও অগভীর নককূপ স্থাপনের কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তাই দ্রুত জলাধার সংরক্ষণ বাস্তবায়ন আইন পাস না করলে ভবিষ্যতে পানির সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করবে।
যশোর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদ পারভেজ বলেন, গত কয়েক বছর ধরে ওয়াটার টেবিলের লেয়ার নিম্মমুখী। এ কারণে সুপেয় পানির সঙ্কট যাতে না হয়, সে জন্য উপজেলা পর্যায়ে সাবমারসিবলের মাধ্যমে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ডিপি/