দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বিশ্বকাপের অন্যতম হাইভোল্টেজ ম্যাচ ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা সেমিফাইনালকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। দুই দেশের দীর্ঘদিনের ফুটবল বৈরিতার কথা বিবেচনায় নিয়ে স্টেডিয়াম ও শহরজুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দলের সমর্থকদের জন্য রাখা হয়েছে পৃথক প্রবেশপথ। খবর রয়টার্সের।
বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাত ১টায় আটলান্টা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ২০২৬ বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনাল। ম্যাচটি ঘিরে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে আটলান্টা পুলিশ বিভাগ (এপিডি)।
এক বিবৃতিতে এপিডি জানিয়েছে, পুরো শহরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম ইতোমধ্যে মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী সেগুলো ব্যবহার করা হবে, যাতে দর্শকরা নিরাপদ ও আনন্দময় পরিবেশে ম্যাচ উপভোগ করতে পারেন।
পুলিশ জানিয়েছে, নিয়মিত ঝুঁকি মূল্যায়নের ভিত্তিতেই এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে নিরাপত্তা পরিকল্পনার বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে না। এপিডি আরও জানিয়েছে, এ আয়োজনের নিরাপত্তায় তারা যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।
আর্জেন্টিনার নিরাপত্তামন্ত্রী আলেহান্দ্রা মন্তেওলিভা জানান, যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে দুই দেশের সমর্থকদের নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তার ভাষ্য, এবারের বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার সমর্থকদের স্টেডিয়ামে প্রবেশ করানো হবে পৃথক প্রবেশপথ দিয়ে।
তিনি বলেন, ‘মোট ১ হাজার ৬০০ নিরাপত্তাকর্মী দায়িত্ব পালন করবেন। আমরা চাই, উদযাপন হোক শান্তিপূর্ণ।’
মন্তেওলিভা আরও জানান, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ (আর্জেন্টিনার ভাষায় মালভিনাস) ইস্যুতে রাজনৈতিক বার্তাসংবলিত কোনো পতাকা, ব্যানার বা পোস্টার স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। রাজনৈতিক বা বর্ণবাদী উসকানিমূলক যেকোনো বার্তাবাহী সামগ্রীও নিষিদ্ধ থাকবে।
ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার ফুটবল বৈরিতা বিশ্বকাপের ইতিহাসে বহুবার আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধের পর সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র হয়। এরপর বিশ্বকাপে দুই দলের একাধিক ম্যাচ নাটকীয়তা, বিতর্ক ও উত্তেজনার কারণে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে আছে।
এদিকে ইংল্যান্ড সমর্থকদের সংগঠন ফুটবল সাপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (এফএসএ) সমর্থকদের শান্তিপূর্ণ আচরণ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।
এক বিবৃতিতে সংগঠনটি বলেছে, ‘উত্তর আমেরিকাজুড়ে ইংল্যান্ডের সমর্থকেরা যেভাবে নিজেদের উপস্থাপন করেছেন, তাতে আমরা গর্বিত। পুরোনো নেতিবাচক ধারণাগুলো যে আর আমাদের প্রতিনিধিত্ব করে না, সেটি আমরা আবারও প্রমাণ করেছি। সবাই একে অন্যের খেয়াল রাখুন এবং দেশের প্রতিনিধিত্ব করুন গর্বের সঙ্গে।’
এমএস/