দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বিশ্বকাপের মঞ্চে বাণিজ্যিকতার বিস্তার নতুন কিছু নয়। টিকিট বিক্রি, সম্প্রচার স্বত্ব, বিজ্ঞাপন কিংবা স্টেডিয়াম ব্র্যান্ডিং-সব ক্ষেত্রেই এর প্রভাব স্পষ্ট। তবে এবার দেখা গেল নতুন এক মাত্রা। প্রথমবারের মতো রেফারিং ইউনিটেও স্পনসরশিপের উপস্থিতি নজরে এসেছে, যা ফুটবল অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা ২০২৩ থেকে ২০২৬ অর্থচক্রে বিপুল আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, সেই লক্ষ্যের বড় একটি অংশ আসবে বিশ্বকাপ থেকে। ফলে আয় বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে সম্ভাব্য প্রতিটি ক্ষেত্রকে বাণিজ্যিকভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে সংস্থাটি।
সম্প্রতি ইংল্যান্ডের একটি ম্যাচে বিষয়টি প্রথমবারের মতো সবার নজরে আসে। খেলোয়াড় পরিবর্তন ও অতিরিক্ত সময়ের বোর্ড বহনকারী চতুর্থ অফিশিয়ালের পোশাকে স্পষ্টভাবে দেখা যায় একটি ডিওডোরেন্ট ব্র্যান্ডের লোগো। মাঠের এমন গুরুত্বপূর্ণ ও দৃশ্যমান স্থানে ব্র্যান্ডের উপস্থিতি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জন্য বড় প্রচারণার সুযোগ তৈরি করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
শুধু পোশাকেই নয়, অতিরিক্ত সময় প্রদর্শনের বোর্ড, খেলোয়াড় বদলের সরঞ্জাম এবং ম্যাচ পরিচালনায় ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণেও বিজ্ঞাপনের উপস্থিতি ক্রমেই বাড়ছে। তবে এখন পর্যন্ত প্রধান রেফারি ও সহকারী রেফারিদের ইউনিফর্মে কোনো বাণিজ্যিক লোগো যুক্ত করা হয়নি।
এদিকে অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা, দলের বিস্তার এবং ম্যাচ বৃদ্ধির কারণে এবারের বিশ্বকাপ ইতোমধ্যেই আয় ও দর্শক উপস্থিতির ক্ষেত্রে নতুন রেকর্ড গড়েছে। একদিনেই কয়েক লাখ দর্শকের উপস্থিতি আগের অনেক রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে বলে জানা গেছে।
ফিফার দাবি, বিশ্বকাপ থেকে অর্জিত বিপুল রাজস্ব সদস্য দেশগুলোর ফুটবল উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ এবং তৃণমূল পর্যায়ের খেলাধুলার প্রসারে ব্যয় করা হয়। তবে রেফারিং ইউনিট পর্যন্ত স্পনসরশিপের বিস্তার ফুটবলের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিকীকরণ নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে- খেলার সৌন্দর্য ও ঐতিহ্যের সঙ্গে বাণিজ্যিক স্বার্থের এই ভারসাম্য ভবিষ্যতে কতটা বজায় রাখা সম্ভব হবে?
কেএম