দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ফুটবলপ্রেমীদের পাগলামি আর অদ্ভুত সব বিশ্বাসের গল্প যেন শেষ হওয়ার নয়। আর মঞ্চটা যদি হয় বিশ্বকাপ, তবে সেই উন্মাদনা রূপ নেয় নতুন মাত্রায়। ব্রাজিলের একনিষ্ঠ সমর্থক ইয়োহান লেরবাউমের কাণ্ড দেখলেই তা বোঝা যায়। ফুটবল দুনিয়ায় একটা কথা প্রচলিত আছে—'খাঁটি সমর্থকেরা তাদের সৌভাগ্যের জার্সি কখনোই ধুয়ে ফেলেন না; এমনকি তাতে যদি বারবার হেরে যাওয়ার বেদনা কিংবা বিয়ারের দাগও লেগে থাকে!' লেরবাউম যেন এই কথারই জীবন্ত প্রমাণ।
লেরবাউমের পরিচয়টা একটু জেনে নেওয়া যাক। শৈশবেই (১১ বছর বয়সে) ব্রাজিল ছেড়ে পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান তিনি। লাতিন আমেরিকার এই দেশটির অন্ধ ভক্ত হলেও মাঠে বসে কখনো প্রিয় দলের খেলা দেখার সুযোগ হয়নি তার। এবার যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক হওয়ায় লেরবাউমের সেই স্বপ্ন পূরণের সুযোগ আসে। তবে শুরুতে তিনি জানতেন না যুক্তরাষ্ট্রে সেলেসাওদের বেজক্যাম্প ঠিক কোথায় হবে।
এরপরই ঘটে এক দারুণ কাকতালীয় ঘটনা! এবারের বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মরিস টাউনশিপ শহরের 'কলম্বিয়া পার্ক ট্রেনিং ফ্যাসিলিটি সেন্টারে' বেজক্যাম্প স্থাপন করেছে ব্রাজিল। পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের এই আস্তানার খবর হঠাৎ করেই জানতে পারেন লেরবাউম। জায়গাটি তার বাসা থেকে খুব বেশি দূরেও নয়। ব্যস, এমন সুবর্ণ সুযোগ কি আর হাতছাড়া করা যায়! কার্লো আনচেলত্তির দল সেখানে পৌঁছানোর পর থেকে লেরবাউম একটি দিনও মিস করেননি। প্রতিদিন প্রিয় দলের অনুশীলন দেখতে মাঠের গেটে গিয়ে হাজির হন তিনি। কখনো কখনো ভাগ্য সহায় হলে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র কিংবা কোচ আনচেলত্তির উদ্দেশ্যে হাত নাড়িয়ে দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টাও করেন।
ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম ‘ইউওএল’ (UOL)-কে লেরবাউম বলেন, "ওদের আমার চোখের সামনে দিয়ে মাঠে ঢুকতে বা বের হতে দেখাটা মনের ভেতর অন্যরকম এক প্রশান্তি এনে দেয়। প্রতিদিন সকাল ৮টায় এখানে চলে আসি। গেটের সামনে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আড্ডা দিই। সাড়ে ৯টায় দল যখন ভেতরে ঢোকে তা দেখি, আর দুপুর দেড়টা পর্যন্ত অপেক্ষা করি খেলোয়াড়দের বেরিয়ে যাওয়া দেখার জন্য। প্রিয় দলের প্রতি এটা আমার এক ধরণের দায়িত্ব।"
মজার ব্যাপার হলো, লেরবাউম প্রতিদিন একই জার্সি গায়ে দিয়ে ভিনি-রাফিনিয়াদের অনুশীলন দেখতে যান। সেটি হলো এবারের বিশ্বকাপের জন্য তৈরি ব্রাজিলের নীল রঙের ‘অ্যাওয়ে’ জার্সি। অবশ্য সাথে একটি ঐতিহ্যবাহী হলুদ জার্সিও রাখেন তিনি, যদি কখনো নেইমার-ভিনিদের অটোগ্রাফ নেওয়ার সুযোগ মিলে যায়—সেই আশায়!
লেরবাউম তার গায়ের জার্সিটি দেখিয়ে হাসতে হাসতে বলেন, "আমি প্রতিদিন এই একটা জার্সি পরেই আসি। এটি আমি একবারও ধুইনি! এই জার্সিটা আমার জন্য লাকি চার্ম বা সৌভাগ্যের প্রতীক। বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিল বিদায় নেওয়ার আগে কিংবা ট্রফি নিয়ে ঘরে ফেরার আগে এই জার্সি আমি কোনোভাবেই ধোব না।"
সংবাদমাধ্যম ইউওএল জানিয়েছে, ব্রাজিলের অনুশীলন সেন্টারের গেটে ইয়োহানই একমাত্র নিয়মিত সমর্থক। কড়া নিরাপত্তার কারণে সেখানে পৌঁছানো বেশ কঠিন বলেই হয়তো সাধারণ দর্শকদের ভিড় নেই। নিরাপত্তার জন্য বসানো হয়েছে বেশ কয়েকটি পুলিশ চেকপোস্ট। তবে প্রতিদিন নিয়ম করে আসায় দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বেশ খাতির হয়ে গেছে লেরবাউমের। সেই সুবাদে কিছুটা সুবিধাও পাচ্ছেন তিনি। লেরবাউম জানান, "কথায় কথায় পুলিশ ভাইদের সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব হয়ে গেছে। ওনারা বোঝেন যে আমি কোনো ঝামেলা করতে আসিনি, স্রেফ ভালোবাসার টানে আসি। তাই ওনারাই আমাকে কিছুটা সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেন।"
বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে হাইতির মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ব্রাজিল। আগামীকাল বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি। এই ম্যাচ নিয়ে লেরবাউমের চাওয়া—দলের ১৯ বছর বয়সী তরুণ স্ট্রাইকার এনদ্রিক যেন মূল একাদশে সুযোগ পান। তার ভাষায়, "ছেলেটাকে সুযোগ দেওয়া উচিত, ওর দারুণ প্রতিভা আছে। প্রথম ম্যাচটা হয়তো তেমন ভালো যায়নি, তবে হাইতির বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে আমি ভীষণ আশাবাদী।"
এমএস/