দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ক্রিকেট মাঠে একসময় যিনি প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতেন, এবার সেই সৌরভ গাঙ্গুলীই পড়েছেন আতঙ্কে। ভারতের সাবেক অধিনায়ক ও ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গলের সভাপতি পেয়েছেন প্রাণনাশের হুমকিসহ একাধিক চিঠি। একটি চিঠিতে সরাসরি সৌরভ ও তাঁর স্ত্রী ডোনা গাঙ্গুলীকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। কয়েক মাস ধরে এমন হুমকির চিঠি পাওয়ার কথা জানিয়ে পুলিশে অভিযোগ করেছেন সৌরভ। এরপরই রহস্যময় চিঠির প্রেরককে শনাক্ত করতে তদন্তে নেমেছে কলকাতা পুলিশ।
ভারতের বার্তা সংস্থা পিটিআই সূত্রে জানা গেছে, সৌরভ গাঙ্গুলী দক্ষিণ কলকাতার ঠাকুরপুকুর থানায় লিখিত অভিযোগ করার পর কে বা কারা এমন হুমকিসূচক চিঠি পাঠিয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে জোর তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ নিয়ে বলেন, ‘আমরা অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি এবং তদন্ত শুরু করেছি। এর পেছনে দায়ী ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে চিঠির ভাষা, পাঠানোর উৎস ও কুরিয়ার সার্ভিসের বিবরণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
ভারতের অন্যতম সফল এই সাবেক অধিনায়ক গতকাল তাঁর কার্যালয়ে সর্বশেষ হুমকিসূচক চিঠিটি পান। এরপর দক্ষিণ কলকাতার ঠাকুরপুকুর থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ করেন।
ভারতের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বিসিসিআইয়ের সাবেক এই সভাপতির নামে প্রায় ছয় মাস ধরে এমন চিঠি আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে শুরুতে বিষয়টিকে অতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।
ভারতকে ২০০২ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জেতানো সাবেক এই অধিনায়কের ব্যবস্থাপকের দায়ের করা পুলিশি এজাহার অনুযায়ী, গতকাল তাঁর কার্যালয়ে আসা দুটি চিঠিতে সরাসরি সৌরভ গাঙ্গুলী ও তাঁর স্ত্রী ডোনাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে তাঁদের স্বজন ও কাছের মানুষদের ক্ষতি করার বার্তা দেওয়া হয়।
পুলিশের ওই কর্মকর্তা জানান, চিঠিতে লেখা বিষয়বস্তু খতিয়ে দেখার পাশাপাশি প্রেরকের পরিচয় এবং আক্রমণের উদ্দেশ্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, চিঠি দুটি সম্ভবত উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বেলঘরিয়ার এক ব্যক্তি কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পাঠিয়েছেন।
প্রেরকের ব্যবহৃত সন্দেহভাজন সিম কার্ডের অবস্থান ও গতিবিধি নজরদারিতে রাখা হয়েছে এবং পার্সেলের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে সংশ্লিষ্ট কুরিয়ার এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানান সেই পুলিশ কর্মকর্তা। তাঁর ভাষায়, ‘আমরা কুরিয়ার সার্ভিসের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছি এবং একটি মোবাইল নম্বর শনাক্ত করতে পেরেছি। নম্বরটির বর্তমান অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চলছে।’
সব কটি চিঠি একই ব্যক্তির পাঠানো কি না এবং এই হুমকির নেপথ্যে আসল কারণ কী, তা কলকাতা পুলিশের তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন বলে জানান সেই পুলিশ কর্মকর্তা।
কেএম