দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইউরোপের সেরা গোলদাতার পুরস্কার ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু দ্বিতীয়বারের মতো জিততে যাচ্ছেন বায়ার্ন মিউনিখের ইংলিশ তারকা হ্যারি কেইন। ২০২৫-২৬ মৌসুমে দুর্দান্ত গোল-ধারাবাহিকতার স্বীকৃতি হিসেবে আগামী ১৯ আগস্ট বায়ার্নের আলিয়াঞ্জ অ্যারেনা মিউজিয়ামে তার হাতে এই পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।
এর আগে ২০২৪ সালে প্রথমবার গোল্ডেন শু জিতেছিলেন কেইন। এবার দ্বিতীয়বার এই পুরস্কার জিতে ইউরোপের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের বিশেষ তালিকায় নিজের অবস্থান আরও শক্ত করবেন তিনি। তার চেয়ে বেশি বার এই পুরস্কার জিতেছেন কেবল লিওনেল মেসি ও ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো।
২০২৫-২৬ মৌসুমে বুন্দেসলিগায় ৩৬ গোল করেছেন কেইন। টানা তৃতীয়বারের মতো প্রতিযোগিতাটির সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কারও জিতেছেন তিনি। দুই বছর আগে প্রথমবার গোল্ডেন শু জেতার সময়ও বুন্দেসলিগায় তার গোলসংখ্যা ছিল ৩৬।
কেইনের গোল-সাফল্যে বায়ার্নও পেয়েছে একাধিক শিরোপা। তার পারফরম্যান্সের ওপর ভর করে জার্মান ক্লাবটি লিগ শিরোপার পাশাপাশি ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার সুপারকাপ ও ডিএফবি কাপ জিতেছে। ডিএফবি কাপের ফাইনালে হ্যাটট্রিক করে দলকে শিরোপা এনে দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিযোগিতাটির সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কারও জিতেছেন তিনি।
ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে পুরো মৌসুমে কেইন ৬৫টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে করেছেন ৭৩ গোল এবং সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও আটটি গোল। এক মৌসুমে ৭৩ গোল করে একবিংশ শতাব্দীতে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলের তালিকায়ও শীর্ষস্থানীয়দের একজন হয়েছেন তিনি।
চ্যাম্পিয়নস লিগেও গোলের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন কেইন। ২০২৫-২৬ মৌসুমে প্রতিযোগিতাটির সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থেকে মৌসুম শেষ করেন তিনি। বায়ার্নে যোগ দেওয়ার পর ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের কোনো একটি ক্লাবের হয়ে দ্রুততম ১০০ গোলের মাইলফলকও স্পর্শ করেছেন এই ইংলিশ স্ট্রাইকার।
জাতীয় দলের হয়েও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন কেইন। ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হিসেবে বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব ও মূল টুর্নামেন্টে গুরুত্বপূর্ণ গোল করেছেন তিনি। ইংল্যান্ডের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাও কেইন।
বায়ার্নের কর্মকর্তাদের মতে, কেইনের সাফল্যের পেছনে শুধু গোল করার দক্ষতা নয়, মাঠে জায়গা তৈরি করা, সতীর্থদের সুযোগ তৈরি করে দেওয়া এবং আক্রমণের গতিপথ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বায়ার্নের সভাপতি হারবার্ট হাইনার মনে করেন, কেইন ইতোমধ্যে ক্লাবটির কিংবদন্তি স্ট্রাইকারদের পাশে নিজের জায়গা করে নিয়েছেন। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়ান-ক্রিশ্চিয়ান দ্রিসেন ও ক্রীড়া বিভাগের বোর্ড সদস্য ম্যাক্স এবার্লও কেইনের গোল করার পাশাপাশি দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতার প্রশংসা করেছেন।
বায়ার্নের হয়ে এর আগে ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু জিতেছেন গের্ড মুলার ও রবার্ট লেভানদোভস্কি। মুলার ১৯৭০ ও ১৯৭২ সালে এবং লেভানদোভস্কি ২০২১ ও ২০২২ সালে এই পুরস্কার জেতেন। এবার কেইনও বায়ার্নের জার্সিতে দ্বিতীয়বারের মতো এই পুরস্কার জয়ের কীর্তি গড়তে যাচ্ছেন।
ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শুর ইতিহাসে লিওনেল মেসি, ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো, গের্ড মুলার, রবার্ট লেভানদোভস্কি, ফ্রান্সেসকো টট্টি, থিয়েরি অঁরি, রোনালদো নাজারিও, মার্কো ফন বাস্তেন, হ্রিস্তো স্তইচকভ ও ইউসেবিওর মতো কিংবদন্তি ফুটবলারের নাম রয়েছে।
৩৬ গোলের বুন্দেসলিগা মৌসুম, ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে ৭৩ গোল, দলীয় শিরোপা এবং একাধিক ব্যক্তিগত রেকর্ডের পর দ্বিতীয় গোল্ডেন শু জিততে যাচ্ছেন কেইন। আগামী ১৯ আগস্ট বায়ার্ন মিউজিয়ামে তার হাতে পুরস্কারটি তুলে দেওয়া হবে।
এমএম/