দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের ক্রীড়াঙ্গনে বড় ধরনের রদবদল আনা হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গঠিত ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোর অ্যাডহক কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি ঘোষণা শুরু করেছে বর্তমান সরকার।
প্রথম দফায় একসঙ্গে ২৭টি ফেডারেশনের কমিটি ভেঙে নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) এসব কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।
ঘোষিত ২৭টি ফেডারেশনের মধ্যে আছে আর্চারি, উশু, অ্যাথলেটিকস, বক্সিং, রেসলিং, কাবাডি, কারাতে, ক্যারম, খো খো, জিমন্যাস্টিকস, জুডো, টেনিস, টেবিল টেনিস, তায়কোয়ান্দো, দাবা, ফেন্সিং, ব্যাডমিন্টন, ভলিবল, ভারোত্তোলন, মহিলা ক্রীড়া সংস্থা, রাগবি, রেইং, শুটিং, সাইক্লিং, সুইমিং, হকি ও হ্যান্ডবল।
এর আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কমিটিগুলোকে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের নির্দেশ দিলেও নানা জটিলতায় সেই নির্বাচন আলোর মুখ দেখেনি। বর্তমান সরকার এসে আগের কমিটিগুলো বিলুপ্ত করে নতুনদের দায়িত্ব দিচ্ছে এবং নবগঠিত কমিটিকে আগামী তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে প্রশ্ন উঠেছে, মাত্র তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের জন্য ২৭, ২৮ বা ২৯ সদস্য নিয়ে এত বিশাল আকৃতির অ্যাডহক কমিটি গঠনের আদৌ প্রয়োজন ছিল কি না? অতীতেও বহুবার তিন মাসের মধ্যে নির্বাচনের শর্তে অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হলেও বাস্তবে সেই কমিটিগুলোকে সাত-আট বছর পর্যন্ত দায়িত্ব আঁকড়ে থাকতে দেখা গেছে।
বরাবরের মতোই এবারও অ্যাডহক কমিটিগুলোতে সরকারঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরাই প্রাধান্য পেয়েছেন। ক্রীড়াঙ্গনকে রাজনীতিমুক্ত রাখার ঘোষণা মুখে যতই দেওয়া হোক না কেন, ফেডারেশনের শীর্ষ পদে আসার প্রধান মানদণ্ড যে ‘সরকারের ঘনিষ্ঠতা’, এবারও অনেক ক্ষেত্রে তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। জাতীয়তাবাদী ক্রীড়া দলের সঙ্গে যুক্ত অনেকেই এসেছেন ফেডারেশনের দায়িত্বে, আবার কেউ কেউ দায়িত্বে ফিরেছেন।
বাংলাদেশ আর্চারির প্রতিষ্ঠাতা কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপলকে আবারও আর্চারি ফেডারেশনের সভাপতি করা হয়েছে। এই ফেডারেশনের নতুন সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন ব্যবসায়ী ও এসএ গেমসে পদকজয়ী সাবেক আর্চার সৈয়দ তানভীর রায়হান।
বেশ কিছু ফেডারেশনের শীর্ষ পদে ফিরেছেন পুরোনো ও অভিজ্ঞ মুখ। অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী ইমাম তপনকে। সাঁতার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন সৈয়দ আমিনুল হক দেওয়ান সজল। তাঁরা বিগত বিএনপি সরকারের আমলেও একই দায়িত্বে ছিলেন।
অন্য গুরুত্বপূর্ণ ফেডারেশনগুলোর মধ্যে কাবাডির সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদারকে। শুটিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন ল্যাবএইড গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাকিফ শামীম। সাবেক শুটার শারমিন আক্তার রত্নাকে দেওয়া হয়েছে জোড়া দায়িত্ব; তিনি মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পাশাপাশি শুটিং ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্বও পেয়েছেন। দাবা ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম গ্র্যান্ডমাস্টার নিয়াজ মোরশেদ।
এ ছাড়া সাবেক খেলোয়াড় ও সংগঠকদের ওপর আস্থা রাখা হয়েছে বেশ কয়েকটি ফেডারেশনে। হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন এই ফেডারেশনেরই সাবেক সাধারণ সম্পাদক সদ্য প্রয়াত কিংবদন্তি হকি খেলোয়াড় আবদুস সাদেকের ছেলে ইশতিয়াক সাদেক। ভলিবলে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন জাতীয় দলের সাবেক খেলোয়াড় আব্দুল মুমিন সাদ্দাম।
ভারোত্তোলনে সাবেক ভারোত্তোলক এস এম কাজল, ব্যাডমিন্টনে সাবেক জাতীয় খেলোয়াড় হাসিবুর রহমান শাকিল, টেবিল টেনিসে সাবেক টিটি খেলোয়াড় সাইদুল হক সাদী এবং সাইক্লিংয়ে সাবেক সাইক্লিস্ট পারভেজ হাসান সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন। জুডো ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন নয়না চৌধুরী এবং তায়াকোয়ান্দোর সাধারণ সম্পাদক পদে ফিরেছেন মাহমুদুল ইসলাম রানা।
নতুনদের পাশাপাশি পুরোনো কমিটির কয়েকজন কর্মকর্তাকে নিজেদের পদে বহাল রাখা হয়েছে। মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি পদে বহাল আছেন ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা। একইভাবে হ্যান্ডবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক পদে সালাউদ্দিন আহমেদ, জিমন্যাস্টিকস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক পদে হাবিবুর রহমান, বক্সিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক পদে এম এ কুদ্দুস খানকেই রাখা হয়েছে।
কে