দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নেপালের পোখারা বরাবরই বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য ‘পয়মন্ত’ ভেন্যু হিসেবে পরিচিত। তবে সেই পোখরাতেই আক্ষেপের গল্প লিখতে হলো বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৯ নারী ফুটবল দলকে। সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ভারত ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছে লাল-সবুজের মেয়েদের।
টুর্নামেন্টজুড়ে দাপুটে পারফরম্যান্সের পর ফাইনালে এসে পুরোপুরি ছন্দহারা ছিল বাংলাদেশ। যেখানে গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচে ১৮ গোল করে একটিও হজম করেনি দলটি, সেখানে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে কোনো প্রতিরোধই গড়ে তুলতে পারেনি তারা।
পোখারার এবড়োখেবড়ো মাঠে শুরু থেকেই রক্ষণে নড়বড়ে ছিল বাংলাদেশ। ম্যাচের ৪০ মিনিটে বাঁ দিক থেকে আসা একটি ক্রসে বাংলাদেশের ডিফেন্ডাররা পজিশন হারালে অরক্ষিত অবস্থায় বল পান ভারতের অধিনায়ক জুলান নংমাইথেম। খুব কাছ থেকে জাল খুঁজে নিতে ভুল করেননি তিনি। প্রথমার্ধ শেষে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় ভারত।
দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর বদলে আরও এলোমেলো হয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ৬১ মিনিটে ভারতের একটি লং বল সামলাতে গিয়ে গোলরক্ষক ইয়ারজান বেগম ব্যর্থ হলে বিতর্কিত এক সিদ্ধান্তে পেনাল্টি পায় ভারত। এলিজাবেদ লাকড়া স্পট কিক থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন।
এর মাত্র কয়েক মিনিট পরই আবারও গোলরক্ষকের ভুল। প্রতীমার ব্যাকপাস ক্লিয়ার করতে গিয়ে পার্ল ফার্নান্দেজের গায়ে বল মারেন ইয়ারজান। ফিরতি শটে ফাঁকা জালে বল ঠেলে দেন ফার্নান্দেজ। ম্যাচ কার্যত তখনই বাংলাদেশের হাতছাড়া হয়ে যায়।
৮৩ মিনিটে ডিফেন্সের আরেকটি ভুলে অন্বিতা রঘুরামনের গোলে ৪-০ ব্যবধান নিয়ে মাঠ ছাড়ে কোচ পিটার বাটলারের দল।
গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশ ভারতকে ২-০ গোলে হারিয়েছিল। সেই ম্যাচে পুরো নিয়ন্ত্রণ ছিল বাংলাদেশের হাতে। কিন্তু ফাইনালে সেই আত্মবিশ্বাস বা পরিকল্পনার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। রক্ষণ বারবার ভেঙে পড়েছে, গোলরক্ষকের একাধিক ভুলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
এই টুর্নামেন্টকে আগামী মাসে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠেয় এএফসি নারী এশিয়ান কাপের প্রস্তুতি হিসেবে দেখছিলেন কোচ পিটার বাটলার। যদিও দলে সিনিয়র ফুটবলাররা ছিলেন না, তবুও ফাইনালের এমন ভরাডুবি কোচ ও খেলোয়াড়দের জন্য বড় সতর্কবার্তা হয়েই থাকছে।
উল্লেখ্য, সাফ অনূর্ধ্ব-১৮, ১৯ ও ২০—এই তিন বিভাগে সর্বশেষ ছয় আসরের পাঁচটিতেই চ্যাম্পিয়ন ছিল বাংলাদেশ। অনূর্ধ্ব-১৯ বিভাগে ২০২৪ সালে ভারত ও বাংলাদেশ যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।
ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে উজ্জ্বল ছিলেন বাংলাদেশের আলপি আক্তার। দুটি হ্যাটট্রিকসহ মোট ৭ গোল করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন তিনি। মুনকি আক্তার করেছেন ৪ গোল।
এবি/