দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পেন্ডুলামের মতো মতো দুলেছে বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ম্যাচ। কে জিতবে আর কে হারবে সেটা বলা যাচ্ছিল না ঠাওর করে। একবার ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ভারতের তো আবার বাংলাদেশের কাছে। তবে শেষ হাসিটা হাসলো দুই দলই।
তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ জিতে বাংলাদেশের দেওয়া ২২৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সব উইকেট হারিয়ে ম্যাচ টাই করে মাঠ ছেড়েছে ভারত। এতে করে সিরিজ শেষ হলো ১-১ সমতায়।
ম্যাচ জিততে শেষ ওভারে ভারতের দরকার ছিল ৩ রান, হাতে ছিল এক উইকেট। চোট থেকে ফেরা মারুফা আক্তারের হাতে বল তুলে দেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা।
প্রথম দুই বল থেকে আসে দুই রান। তৃতীয় বলে স্ট্রাইকে থাকা মেঘনা সিং অফ স্টাম্পের বাইরের বল খেলতে গিয়ে পরাস্ত হন। এতেই বাংলাদেশের জোরালো আবেদন, তাতে সাড়া দেন আম্পায়ার তানভির আহমেদ। ভারত আপত্তি জানালেও উল্লাসে মাতে স্বাগতিক দল।
রান তাড়া করতে নেমে সফরকারীদের ওপেনিং জুটি ভাঙে শাফালি ভর্মার (৪) বিদায়ে। তাকে কট এন্ড বোল্ড করে ফেরান পেসার মারুফা আকতার। এরপর তিন নম্বরে ব্যাট করতে নামা ইয়াস্তিকা ভাটিয়াকে ৫ রানে ফেরান সুলতানা খাতুন।
তবে ভারতীয়রা ঘুরে দাঁড়ায় ওপেনার স্মৃতি মান্দানা ও হার্লেন দেওলের জুটিতে। স্মৃতি ৮৫ বলে ৫৯ রান করে সাজঘরে ফেরেন ফাহিমা খাতুনের বলে ক্যাচ দিয়ে। তবে দেওল লড়াই করছিলেন একপাশ আগলে রেখে।
তবে অধিনায়ক হারমনপ্রিত কৌর এদিন ১৪ রানের মাথায় স্লিপে ক্যাচ আউট হলেও মাঠেই প্রতিবাদ জানান। যা ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী মঞ্চেও নিয়ে যান, ক্ষোভ ঝাড়েন আম্পায়ারিং নিয়ে। বলেন, পরের বার বাংলাদেশে খেলতে আসার আগে আম্পায়ার কারা থাকছে সেটি জেনে আসবেন।
দেওল খেলেছেন ১০৪ বলে ৭৭ রানের ইনিংস। বিদায় নেন ফাহিমার দুর্দান্ত থ্রোতে নিগারের স্টাম্পিংয়ে। এরপর একা হাতে লড়াই করেছেন জেমিমা রদ্রিগজ। যদিও তার যোগ্য সঙ্গী হয়ে উঠতে পারেননি কেউ।
শেষ দিকে মেঘনা সিং আশা দেখালেও শেষ ওভারের তৃতীয় বলে তাকেও আটকে দেন মারুফা। জেমিমা থেকে যান অপরাজিত ৩৩ রান করে। ভারতের ইনিংস শেষ হয় সব উইকেট হারিয়ে ২২৫ রানে।
বাংলাদেশের পক্ষে ৩ উইকেট নেন নাহিদা আকতার। ২ উইকেট নেন মারুফা আকতার ও ১টি করে উইকেট নেন সুলতানা, রাবেয়া এবং ফাহিমা।
এর আগে সকালে মিরপুরের শের ই বাংলা স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। ওপেনার শামিমা সুলতানার ৭৮ বলে করা ৫২ রানের ইনিংসের পর আরেক ওপেনার ফারজানা হক খেলেন শত রানের অনবদ্য ইনিংস। যা বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম সেঞ্চুরি।
এদিন নিগার সুলতানা করেন ২৪, সোবহানা মোস্তারি করেন ২৩ রান। ফারজানা থামেন ইনিংসের শেষ বলে রান আউট হয়ে ১০৭ (১৬০) রান করে। ততক্ষণে ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ ২২৫/৪ রান পেয়ে যায় বাংলাদেশ।
ভারতের পক্ষে ২ উইকেট নেন স্নেহ রানা ও ১ উইকেট নেন দেবিকা ভাডিয়া।