দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে একাধিক বিতর্কিত আম্পায়ারিং সিদ্ধান্তে ভুগেছে বাংলাদেশ নারী দল। বিশেষ করে ভারতীয় তৃতীয় আম্পায়ার গায়ত্রি ভেনুগোপালের সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়।
মঙ্গলবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৭৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৭৮ রানে ৫ উইকেট হারায় ইংল্যান্ড। তখন ম্যাচের মোড় ঘুরে যাচ্ছিল বাংলাদেশের দিকে। কিন্তু অধিনায়ক হিদার নাইটের দুটি বিতর্কিত ‘নট আউট’ সিদ্ধান্তে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। অনফিল্ড আম্পায়ার আউট দিলেও গায়ত্রি ভিডিও রিপ্লেতে স্পষ্ট প্রমাণ না পেয়ে দু’বারই সিদ্ধান্ত বদলে দেন। শেষ পর্যন্ত নাইটের অপরাজিত ৭৯ রানে ভর করে ৪ উইকেটে জয় তুলে নেয় ইংল্যান্ড।
গায়ত্রি ভেনুগোপালের অভিজ্ঞতা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। ক্রিকেটভিত্তিক পোর্টাল উইজডেন জানায়, তিনি এখন পর্যন্ত মাত্র দুইটি ওয়ানডেতে টিভি আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবুও আইসিসি পুরো নারী বিশ্বকাপের আম্পায়ার প্যানেল নারী সদস্যদের দিয়ে গঠন করে, যেখানে অভিজ্ঞদের পাশাপাশি বেশ কয়েকজন অনভিজ্ঞ আম্পায়ারও রয়েছেন।
এমনকি ভারতের আরেক আম্পায়ার এন জননীও এই বিশ্বকাপে দায়িত্ব পেয়েছেন, যিনি বাংলাদেশ–ভারত ম্যাচে দায়িত্ব পালন করবেন। উইজডেনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নারী আম্পায়ারদের অভিজ্ঞতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে আইসিসি এমন পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে সমালোচকরা বলছেন, পুরুষদের বিশ্বকাপে কখনো এমন ‘অভিজ্ঞতা অর্জনের পরীক্ষা’ হয় না।
ম্যাচে প্রথম বিতর্ক দেখা দেয় বাংলাদেশের পেসার মারুফা আক্তারের করা দ্বিতীয় ওভারে। হিদার নাইটের বিরুদ্ধে কট বিহাইন্ডের আবেদন মেনে অনফিল্ড আম্পায়ার আউট দেন। তবে রিভিউতে ‘আল্ট্রা এজে’ স্পষ্ট প্রমাণ না পাওয়ায় গায়ত্রি সিদ্ধান্ত বদলে ‘নট আউট’ দেন।
পরে আরও একটি ঘটনা ঘটে ১৫তম ওভারে। ফাহিমা খাতুনের বলে কভার অঞ্চলে শট খেলেন নাইট। বলটি শূন্যে থাকার সময় স্বর্ণা আক্তার তালুবন্দী করেন। অনফিল্ড আম্পায়ার আউট দিলেও গায়ত্রি জানান, ‘ছবিতে বলের নিচে হাত স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না’, তাই তিনি নট আউট ঘোষণা করেন।
ফলাফল—দু’বার জীবন পাওয়া হিদার নাইটই ম্যাচ জেতান ইংল্যান্ডকে। বাংলাদেশের ক্রিকেট মহলে এখন প্রশ্ন, অনভিজ্ঞ আম্পায়ারদের এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দায়িত্ব দেওয়া কতটা যৌক্তিক?
এমএস/