দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বাবা বলে ছেলে নাম করবে, সারা পৃথিবী তাকে মনে রাখবে- আগুনের এই গানের মতো সকল বাবাই চায় তার ছেলে খুব বড় কিছু করুক। জীবনে খুব ভালো জায়গায় যাক। সবাই কি পারে বাবার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে? বাবার স্বপ্নকে আগলে ধরে দীপ্ত পায়ে এগিয়ে নিয়ে গেছেন ভারতীয় টেস্ট ক্রিকেটের নতুন তারকা সারফারাজ খান।
অভিষেক ম্যাচে অনিল কুম্বলের কাছ থেকে টেস্ট ক্যাপ নেন সারফারাজ। বাবা হিসেবে এমন একটা দিনের স্বপ্ন বহুদিন ধরেই দেখেছিলেন নওশাদ। শুরুতে খানিক হাসিমুখে থাকলেও শেষ পর্যন্ত নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি তিনি। গায়ে চাপানো জ্যাকেটে চোখের পানি লুকোতে চাইলেন। কিন্তু ক্যামেরার চোখ ফাঁকি দেবেন, সেই সাধ্য হয়ত ছিল না। এ যেনো বিশাল এক যাত্রার গন্তব্য পৌছানোর স্মরণীয় মুহুর্ত।
সারফারাজ খানের টেস্ট অভিষেকের মুহূর্তে মাঠে বাবা নওশাদ খানের সাথে ছিলেন তার স্ত্রী রোমানা জহুর। খান পরিবারের খুশির দিনে ব্যাট হাতেও রাঙালেন সারফারাজ। অভিষেক টেস্টে ফিফটি দিয়ে রাঙালেন ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটের অন্যতম সেরা পারফরমার সারফারাজ। শুধুই ফিফটিই করেননি, ছুঁয়েছেন রেকর্ড। মাত্র ৪৮ বলে ফিফটি ছুঁয়ে ভারতের ক্রিকেট ইতিহাসে টেস্টে দ্বিতীয় দ্রুততম হাফ সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েন তিনি। ৯ চার ও ১ ছক্কায় ৬৬ বলেই করে ফেলেছিলেন ৬২ রান।
প্রায় স্বপ্নের মতো অভিষেকে মাতোয়ারা ছিল ক্রিকেট ভক্তরা। তাদের লাগামহীন উল্লাস দেখেই বড় সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘মাহিন্দ্রা’কোম্পানির কর্ণধার আনন্দ মাহিন্দ্রা। জানিয়ে দিলেন— সারফারাজ খানের বাবাকে ‘থর গাড়ি’ উপহার দিতে চান। নিজের টুইটার (বর্তমানে এক্স) হ্যান্ডেলে আনন্দ মাহিন্দ্রা লিখেন, ‘স্রেফ সাহস হারাবেন না। কঠোর পরিশ্রম, সাহস, ধৈর্য্য– নিজের সন্তানকে উদ্দীপ্ত করার জন্য একজন বাবার আর কী গুণাবলী থাকা প্রয়োজন? একজন অনুপ্রেরণাদায়ক বাবা হিসেবে তিনি আমার পক্ষ থেকে যদি থর গাড়ি উপহার নেন, তাহলে বিষয়টি আমার জন্য সম্মানের হবে”।
সারফারাজের ব্যাটিংয়ের সময় বারবার ক্যামেরায় ধরা পড়ছিলো তার বাবা ও স্ত্রীর মুহুর্তগুলো। একেকটা বাউন্ডারিকে যেমন হাততালিতে বরণ করে নিচ্ছিলেন, তেমনি শেষ বেলায় আউট হওয়ার দৃশ্যতেও নেমেছিল রাজ্যের নিরবতা। রবীন্দ্র জাদেজার ভুল কলে রান আউট হয়ে যান এই ব্যাটার। তবে বিষয়টিকে মোটেই আমলে নেননি সারফারাজ। এ বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করা হলে ইতিবাচক জবাব দিয়ে আবারও সকলের মন জয় করে নেন অভিষিক্ত এই ব্যাটসম্যান। সারফারাজ বলেন, আসলে এটা খেলারই অংশ। ক্রিকেটে ভুল কল, ভুল যোগাযোগ হয়েই থাকে। কখনো কখনো রান আউট হবেন কিংবা কখনো কখনো রান পাবেন।
সঙ্গত কারণেই সারফারাজের টেস্ট অভিষেকটা একটু বেশিই আলোচিত হয়ে থাকবে। ঘরোয়া লিগে নিয়মিত পারফর্ম করে আসছিলেন ২৬ বছর বয়সী এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান। এরপরও কোনোভাবেই যেন ভারতীয় দলের দরজা খুলতে পারছিলেন না। দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে ক্রিকেটের বনেদি ফরম্যাটে অভিষেক হলো তার। ভারতের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ঘরোয়া টুর্নামেন্ট রঞ্জি ট্রফির ২০১৯-২০ ও ২০২১-২২ মৌসুমে টানা ৯০০-এর বেশি রান করেন সারফারাজ। ঘরোয়া ক্রিকেটে ৬৬ ইনিংসে তার গড় ৬৯.৮৫। যা বিশ্ব ক্রিকেটের ইতিহাসে চতুর্থ সর্বোচ্চ। ৯৫.১৪ গড় নিয়ে শীর্ষে আছেন কিংবদন্তি ক্রিকেটার স্যার ডন ব্র্যাডম্যান।
এমন ইর্ষণীয় ফর্মে থাকার পরও বারবরই বোর্ড ফর ক্রিকেট কন্ট্রোল অব ইন্ডিয়া, বিসিসিআইয়ের নির্বাচকদের পরিকল্পনার বাইরে ছিলেন সারফারাজ। অবশেষে শেষ হলো তার আক্ষেপের দিনগুলো আর শুরু হলো নতুন এক শুভ যাত্রার। দর্শক-সমর্থকরা সারা জীবন হয়তো মনে রাখবেন ভারতীয় ক্রিকেট ইতিহাসের বাবা-ছেলের এই সাফল্যের গল্প।
আরআই