দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

একসঙ্গে বেশ কয়েকটি কারণে উত্তাল বাংলাদেশের ক্রিকেট। তার মধ্যে একটি টিম ম্যানেজার নাফিস ইকবালের ড্রেসিং ছেড়ে চলে যাওয়াটা। গত ২৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচ চলাকালীন হুট করেই জানা যায়, ড্রেসিংরুম ছেড়ে চলে গেছেন তিনি।
এমন ঘটনায় জড়ানো হয়েছে সাকিব আল হাসানের নাম। গুঞ্জন উঠেছিল, সাকিবের চাওয়াতেই টিম ম্যানেজার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় নাফিস ইকবালকে। বাংলাদেশের হয়ে ১১টি টেস্ট ও ১৬টি ওয়ানডে খেলা নাফিস আরো একটি পরিচয়, তিনি জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক এবং বিশ্বকাপে বাংলাদেশের স্কোয়াড থেকে বাদ পড়া তামিম ইকবালের বড় ভাই।
তার হঠাত চলে যাওয়াতে সাকিবকে জড়ানো হয়েছে মূলত তামিমের ভাই বলেই। তবে সাকিব বলছেন এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। সাকিব এ নিয়ে কিছু না জানলেও ব্যাখ্যা দিয়েছেন, নিজেকে ক্লিয়ার করেছেন।
বুধবার রাতে টি স্পোর্টসে দেওয়া সাক্ষাতকারে নাফিস ইকবালের এমন কাজকে ‘অপেশাদারিত্ব’ বলেছেন সাকিব।
সাকিব বলেছেন, ‘যদি সত্যিই সে (নাফিস ইকবাল) ম্যাচের মাঝখানে চলে যায় সেটা খুবই অপেশাদারিত্ব। উনার দিক থেকেও, বিসিবি'র দিক থেকেও। আমি চিন্তাও করতে পারি না, একটা ইন্টারন্যাশনাল ম্যাচ চলাকালীন কেউ ড্রেসিংরুম থেকে চলে গেল। এটা যে কেউই হতে পারত। এটা কী ভাবে হয় আমার কোনো ধারণা নাই ম্যাচের মাঝখানে চলে যাওয়া।’
সাকিব আরো বলেন, ‘আমি আসলে জানি না কি হয়েছে, যদি হয়ে থাকে তাহলে আমি মনে করব বিসিবি যে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এটা একটা বড় প্রমাণ।’
সাকিবের এমন মন্তব্যের পর বুধবার দিবাগত রাত ২টা ১৮ মিনিটে নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক অ্যাকাউন্টে করা এক পোস্টে ড্রেসিংরুম ছেড়ে যাওয়ার সেই ঘটনার ব্যাখ্যা দেন নাফিস ইকবাল।
‘আমি অবশ্যই বিসিবি থেকে পদত্যাগ করিনি এবং ছোট ভাই তামিম ইকবালের সঙ্গে যা ঘটছে, তার সঙ্গে আমার এই কাজের কোনো সম্পর্ক নেই। মাঠ থেকে আমার চলে যাওয়ার ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা পর বিশ্বকাপের দল ঘোষণা করা হয়।’
‘সেদিন আমি বিসিবির সব রকম নিয়ম ও আচরণবিধি পুরোপুরি মেনেছি। মাঠে আসার আগে আমি বিষয়টি সবার আগে প্রধান কোচকে জানিয়েছি এবং বিসিবির সংশ্লিষ্ট অফিশিয়ালদেরও জানাই।’
‘আমি নিশ্চিত করতে চাই, সেদিন কোনো কাজই অর্ধেক সম্পন্ন করা হয়নি, যেমন ম্যাচের খেলোয়াড় তালিকায় সই করা, নিউজিল্যান্ড সিরিজে হিসাব বিভাগের কাগজপত্রের ঝামেলা মেটানো এবং বিশ্বকাপের জন্য আমাকে যে দৈনিক ভাতা দেওয়া হয়েছিল, সেটাও ফিরিয়ে দিয়েছি।’
‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এমন সব মুহূর্তে সম্মান প্রাপ্য এবং আসল ঘটনা না জেনেই মন্তব্য করা ঠিক না। নিজের ক্রিকেট ক্যারিয়ার এবং বাংলাদেশ দলের ম্যানেজমেন্টের অংশ হিসেবে সৎ ছিলাম। আমি নিশ্চিত করছি নিজের সেরাটাই দেব এবং সব সময় এটাই করব।’
এমআর/