দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

আফগানিস্তান ছাড়া বোধহয় গোটা পৃথিবী জাননত শ্রীলঙ্কাকে কোন সমীকরণে হারাতে পারলে সুপার ফোরে যাবে তারা। শেষ পর্যন্ত সেটিই হলো। হিসেব ভুলের আক্ষেপে পুড়তে হলো রশিদ-খান মোহাম্মদ নবীদের। অথচ ম্যাচ জিততে চেষ্টার এক বিন্দুও কমতি ছিল না।
বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে কি দুর্দান্ত ব্যাটিংটাই না করে লঙ্কানদের হারানোর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল আফগানরা। ৩৭তম ওভারে তিনটি চার হাঁকিয়ে রশিদ খান যখন বুনো উল্লাসের অপেক্ষায়, তখনও জানতো ৩৮তম ওভারের প্রথম বলে একটা চার মারলেই ম্যাচ জেতার সঙ্গে দলও উঠে যাবে সুপার ফোরে।
স্ট্রাইকে থাকা মুজিব উর রহমান সজোরে মারলেও বাউন্ডারি লাইনের আগে ধরা পড়ে যান সামারাবিক্রমার হাতে। আরেকবার স্বপ্ন ভঙ্গের হতাশা নিয়ে ফজল হক ফারুকি তখন নির্বাক দাঁড়িয়ে উইকেটে এসেও, রশিদ খানের চেষ্টাও আর নেই স্ট্রাইকে আসার।
অথচ তখনও তাদের সুযোগ ছিল সুপার ফোরে যাওয়ার। ধারাভাষ্য কক্ষ থেকে তখনও বলা হচ্ছিল আরও ৩ বল বাকি, এই তিন বলে তিনটা রান নিতে পারলেই সুপার ফোরে চলে যাবে আফগানিস্তান। কিন্তু এই সমীকরণটা আফগানিস্তানের টিম ম্যানেজমেন্টের কেউই জানত না!
ঠিক যে বলটা পর্যন্ত সুযোগ ছিল আফগানদের সেই বলটায় (৩৭.৪) ফারুকি লেগ বিফোর হয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে দেখছিলেন লঙ্কানদের সুপার ফোরে যাওয়ার উল্লাস। এরপর দলের হেড কোচ জনাথন ট্রটকেও দেখা যায় মাঠে নেমে নিজের ক্ষোভ ঝাড়তে। তাতে কি আর ম্যাচটা ফেরে! যা ঘটার তাতো ঘোটেই গেল একটা বল আগে।
এর আগে লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে দুপুরে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় শ্রীলঙ্কা। কুশল মেন্ডিসের ৯২ (৯৪), পাথুম নিশাঙ্কার ৪১, দিমুথ করনারত্নের৩২ এবং দুনিথ ওয়েলল্লালাগের৩৩ রানে ভর করে ৮ উইকেটে ২৯১ রান তোলে শ্রীলঙ্কা।
আফগানিস্তানের পক্ষে ৪ উইকেট নেন গুলবাদিন নাইব। ২টি উইকেট নেন রশিদ খান ও ১টি উইকেট নেন মুজিব উর রহমান।
আফগানদের জানামতে ৩৭.১ ওভারে ২৯২ রান তোলার লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে দলীয় ২৭ রানের মধ্যেই দুই ওপেনারকে হারায়। এরপর গুলবাদিন ফেরেন ১৬ বলে ২২ রান করে। রহমত শাহ খেলেন ৪০ রানের ইনিংস।
ম্যাচ তখনও শ্রীলঙ্কার নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু এরপর মোহাম্মদ নবী এসে রোলার কোস্টার চালান লঙ্কান বোলারদের ওপর। মাত্র ২৭ বলে তুলে নেন অর্ধশতক। সঙ্গে থাকা হাশমতউল্লাহ শহীদিও তখন সেট ব্যাটার। দুজনে মিলে কঠিন অংক সহজ করে দেন মুহুর্তেই।
মোহাম্মদ নবী ৩২ বলে ৬৫ রান করে সাজঘরে ফেরার পথে অনেকে ভেবেছিল এখানেই শেষ আফগানদের জইয়ের হিসেব। কিন্তু হাশমত একপাশ আগলে রেখে রান তোলেন দ্রুত। যে উইকেটে এসেছে তাকেই দেখা গেছে দুহাত খুলে ব্যাট চালাতে।
হাশমত বিদায় নেন ৫৯ রান করে। এরপর কারিম জানাতের ২২ (১৩), নাজিবুল্লাহ জাদরান ১৫ বলে খেলেন ২৩ রানের ইনিংস। রশিদ খান লড়াই করেছেন শেষ পর্যন্ত। কিন্তু নিজেদের ভুলে শেষ পর্যন্ত ২৮৯ রানেই থামতে হয় আফগানিস্তানকে।
শ্রীলঙ্কার পক্ষে ৪ উইকেট নেন কাসুন রাজিথা। ২টি করে উইকেট নেন দুনিথ ওয়েল্লালাগ ও ধনঞ্জয়া।
এমআর/