দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বিশ্বসেরা হওয়ার স্বীকৃতি, হাতে সোনালি ট্রফি নিয়ে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখানো কিংবা ব্যালন ডি’অর জয়ের আনন্দের সঙ্গে তুলনা চলে না অন্য কিছুর। কিন্তু এত সম্মান, তারকাখ্যাতি আর বিশ্বজুড়ে পরিচিতির কেন্দ্রে থাকা এই পুরস্কার জিতলে কি ফুটবলারদের হাতে ওঠে মোটা অঙ্কের অর্থ? উত্তরটা অনেকের ধারণার সঙ্গে মিলবে না। কারণ, ব্যালন ডি’অর জিতলেই আয়োজকদের কাছ থেকে নগদ অর্থ পান না বিজয়ীরা। তবে এই স্বীকৃতি একজন ফুটবলারের আয় বাড়ানোর নতুন দরজা খুলে দিতে পারে।
১৯৫৬ সালে ফরাসি সাময়িকী ‘ফ্রান্স ফুটবল’ চালু করে ব্যালন ডি’অর। শুরুতে ইউরোপের সেরা ফুটবলারকে দেওয়া হলেও সময়ের সঙ্গে পুরস্কারটির পরিধি বেড়েছে। এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ফুটবলাররা এই সম্মানের জন্য বিবেচিত হন। পুরুষদের পাশাপাশি নারী ফুটবলারদের জন্যও রয়েছে ব্যালন ডি’অর।
ব্যালন ডি’অরের আয়োজক ফ্রান্স ফুটবল বিজয়ীকে নির্দিষ্ট কোনো অর্থ পুরস্কার দেয় না। অর্থাৎ, ট্রফি জিতলেই আয়োজকদের কাছ থেকে নির্ধারিত অঙ্কের টাকা পাওয়ার নিয়ম নেই। তবে খেলোয়াড়ের ক্লাবের সঙ্গে চুক্তিতে বিশেষ বোনাসের শর্ত থাকলে পুরস্কার জয়ের সুবাদে তিনি বড় অঙ্কের অর্থ পেতে পারেন।
এ ছাড়া ব্যালন ডি’অর জয় একজন খেলোয়াড়ের বাণিজ্যিক মূল্য বাড়িয়ে দেয়। বিশ্বজুড়ে পরিচিতি বেড়ে যাওয়ায় নতুন পৃষ্ঠপোষকতা, বিজ্ঞাপনের চুক্তি ও বিভিন্ন বিপণন কার্যক্রম থেকে আয় করার সুযোগ তৈরি হয়। তবে এই আয় সবার ক্ষেত্রে এক রকম নয়। তা নির্ভর করে খেলোয়াড়ের জনপ্রিয়তা, চুক্তির শর্ত ও বাণিজ্যিক চাহিদার ওপর।
ব্যালন ডি’অর জয়ের পর পৃষ্ঠপোষক কিংবা ক্লাবের কাছ থেকে বোনাস পাওয়ার নজির রয়েছে। ২০১৮ সালে পুরস্কার জয়ের পর ক্রোয়েশিয়ার লুকা মদরিচ তার পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান নাইকির কাছ থেকে প্রায় আট লাখ ইউরো বোনাস পেয়েছিলেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। তবে এটি আয়োজকদের দেওয়া পুরস্কার নয়। পৃষ্ঠপোষকের সঙ্গে চুক্তির আওতায় পাওয়া অর্থ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ক্লাবের চুক্তিতেও থাকতে পারে ব্যালন ডি’অর জয়ের জন্য বিশেষ বোনাসের শর্ত। সে ক্ষেত্রে পুরস্কার জিতলে খেলোয়াড়ের আয় বাড়তে পারে। তবে এ ধরনের চুক্তির সব তথ্য প্রকাশ্যে আসে না, আর বোনাসের অঙ্কও খেলোয়াড়ভেদে আলাদা।
ব্যালন ডি’অরের সোনালি ট্রফিটি দেখে অনেকে মনে করেন, পুরস্কারটি বুঝি পুরোপুরি সোনার তৈরি। বাস্তবে তা নয়। ফরাসি গহনা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মেলেরিও হাতে তৈরি করে এই ট্রফি। এতে পিতলের তৈরি বলের আকৃতির অংশে সোনার প্রলেপ দেওয়া হয়, আর নিচে থাকে পাইরাইট পাথরের ভিত্তি। ট্রফিটি তৈরিতে কারিগরদের প্রায় ১০০ ঘণ্টা সময় ব্যায় করতে হয়।
ট্রফিটির নির্মাণমূল্য নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রায় তিন হাজার ইউরোর হিসাব প্রচলিত রয়েছে। তবে আয়োজক বা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান আনুষ্ঠানিকভাবে এর নির্দিষ্ট দাম ঘোষণা করেনি। তাই এই অঙ্ককে নিশ্চিত বাজারমূল্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দিবাগত রাতে লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে অনুষ্ঠিত হবে ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। বাংলাদেশ সময় রাত ১২টার দিকে শুরু হবে।
কেএম