দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

জয়ের জন্য শেষ দিনে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৭ উইকেট। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও ছিল টাইগারদের হাতে। বিরতি দিয়ে আফগানিস্তানের উইকেট তুলে নিচ্ছিলেন বাংলাদেশের বোলাররা। তবে প্রতিবারই এক প্রান্ত আগলে রেখে প্রতিরোধ গড়েন ওপেনার সেদিকুল্লাহ আতাল। শেষ পর্যন্ত তাইজুল ইসলামের ঘূর্ণিতে তাঁর বিদায়ের পর জয়ের আশা জেগেছিল বাংলাদেশের। কিন্তু একের পর এক সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় জয় অধরাই থেকে যায়। ইয়ামিন আহমাদজাই ও কায়েস আহমেদের দৃঢ়তায় শেষ পর্যন্ত ম্যাচ ড্র করে আফগানিস্তান।
৩ উইকেটে ১৩২ রান নিয়ে পঞ্চম দিনের খেলা শুরু করে আফগানরা। বড় লক্ষ্য সামনে থাকায় শুরু থেকেই ড্রয়ের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাটিং করেন আগের দিনের অপরাজিত দুই ব্যাটার সেদিকুল্লাহ আতাল ও হাশমতউল্লাহ শহীদি।
একাধিকবার বোলিং পরিবর্তন করেও সাফল্য পাচ্ছিলেন না বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। বিশেষ করে স্পিনাররা প্রত্যাশা অনুযায়ী উইকেট আদায় করতে পারছিলেন না। শেষ দিনে উইকেটে বেশ কিছু ফাটল দেখা গেলেও সেগুলো কাজে লাগিয়ে বাড়তি টার্ন আদায় করতে পারেননি বাংলাদেশের স্পিনাররা। আবুধাবির উইকেটে ব্যাটারদের জন্য সহায়ক পরিস্থিতিতে তাইজুল ইসলাম, মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাঈম হাসানের বোলিংয়ে খুব বেশি প্রভাব দেখা যায়নি।
তবে প্রচণ্ড গরমে টানা ব্যাটিং করা কঠিন হয়ে পড়ে আফগান ব্যাটারদের জন্য। ক্র্যাম্পের কারণে প্রথম সেশনেই মাঠ ছাড়তে হয় শহীদিকে। ৩৩ বলে ২০ রান করেন তিনি।
লাঞ্চের কিছুক্ষণ আগে উইকেটের দেখা পায় বাংলাদেশ। ৭৮তম ওভারের প্রথম বলে লেগ স্টাম্পের বাইরে খাটো লেংথে বল করেন এবাদত হোসেন। পুল করতে গিয়ে ব্যাটের বাইরের কানায় বল লাগান ইকরাম আলিখিল। উইকেটের পেছনে ডানদিকে ঝাঁপিয়ে দুর্দান্ত ক্যাচ নেন লিটন দাস। ৬৯ বলে ৩৩ রান করে ফেরেন ইকরাম।
পঞ্চম উইকেটে আতাল ও ইসমত আলম ৪০ রানের জুটি গড়েন। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ইসমত। ৬০ বল খেলে ৪ রান করেন তিনি।
এরপর আবার ব্যাটিংয়ে ফেরেন প্রথম সেশনে রিটায়ার্ড হার্ট হওয়া শহীদি। তবে এবারও জুটি ভাঙেন মিরাজ। তাঁর বলে হাসান মাহমুদের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন শহীদি। আউট হওয়ার আগে ৬৯ বলে ৩৬ রান করেন তিনি।
অন্য প্রান্তে অবিচল থেকে ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নেন আফগান ওপেনার সেদিকুল্লাহ আতাল। তবে দিনের শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারেননি তিনি। ৩৩২ বলের ধৈর্যশীল ইনিংসে ৯টি চার ও ৩টি ছক্কায় ১১১ রান করেন আতাল। তাঁর বিদায়ের পর বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা বাড়লেও শেষ পর্যন্ত তা কাজে লাগানো যায়নি।
বাংলাদেশের হয়ে এবাদত হোসেন ও মেহেদী হাসান মিরাজ ৩টি করে উইকেট নেন। হাসান মাহমুদ ও নাঈম হাসান পান একটি করে উইকেট।
এমএস/