দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চলতে চলতে হঠাৎ মাথা ঘুরে যাওয়ার মতো সমস্যা নতুন কিছু নয়। মাঝেমধ্যে চোখের সামনে সবকিছু অন্ধকার হয়ে যাওয়া। আর এটাকেই বলে ব্ল্যাকআউট। এমন সমস্যা হলে অনেকেই শারীরিক দুর্বলতা বলে এড়িয়ে যান। আবার কেউ কেউ ব্লাড প্রেসার নেমে গেছে ভেবে ভুল করেন। ঠিক কী কারণে ঘটতে পারে ব্ল্যাক আউট? এর উত্তর অনেকেরই অজানা।
এ বিষয়ে স্কয়ার হাসপাতালের নিউরোমেডিসিন বিভাগের ডা. হিমেল বিশ্বাস এক গণমাধ্যমে তার লেখা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন। সেখানে তিনি ব্ল্যাকআউটের লক্ষণ, কারণ ও প্রতিরোধে কি করণীয় তা জানিয়েছেন। চলুন জেনে নিই সেসব কী কী:
১. হঠাৎ ভীষণ দুর্বল লাগা, দাঁড়ানো অবস্থা থেকে হঠাৎ পড়ে যাওয়া।
২. কথা বলতে সমস্যা হওয়া বা কথা জড়িয়ে যাওয়া।
৩. হাঁটতে বা দাঁড়াতে ভারসাম্যহীনতা বোধ করা।
৪. চোখে ঝাপসা দেখা।
৫. মাথা ঘোরা।
৬. অকারণে অনেক ঘাম হওয়া।
১. মস্তিষ্কে অল্প সময়ের জন্য রক্ত চলাচল কমে গেলে হঠাৎ ব্ল্যাকআউট হতে পারে। মেডিকেলের ভাষায় একে বলে সিনকোপাল অ্যাটাক।
২. রক্তচাপ স্বাভাবিকের চেয়ে দুই তৃতীয়াংশ নিচে নেমে গেল এমনটা হতে পারে।
৩. রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ কমে গেলে এমনটা হতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলে হাইপোগ্লাইসেমিয়া। সাধারণত ডায়াবেটিসের রোগীরা দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে বা অতিরিক্ত ডোজ ইনসুলিন বা ওষুধ নিলে এমন হতে পারে।
৪. যাঁদের খিঁচুনি রোগ বা এপিলেপসি আছে, তাঁদের ক্ষেত্রেও হতে পারে।
৫. রক্তে খারাপ চর্বি যেমন কোলেস্টেরল, এলডিএল, ট্রাইগ্লিসারয়েডের পরিমাণ বেড়ে গেলে, রক্ত চলাচলে ব্যাঘাত ঘটে এই সমস্যা হতে পারে।
৬. অতিরিক্ত মদ্যপান বা ধূমপানের কারণেও হতে পারে।
৭. কর্মক্ষেত্রে বা পারিবারিকভাবে চাপ (স্ট্রেস) বেশি হলেও এমন হওয়ার আশঙ্কা অনেক।
৮. কোনো ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায়ও এমন হতে পারে।
১. কর্মক্ষেত্র এবং পারিবারিক জীবন স্ট্রেসমুক্ত রাখার চেষ্টা করা, প্রয়োজনে কাজের চাপ সবার মধ্যে ভাগ করে নেওয়া।
২. সারা দিন টানা কাজ না করে মাঝেমধ্যে বিরতি নেওয়া।
৩. নিয়মমাফিক রুটিন মেনে চলা। যেমন পড়াশোনার রুটিন, কাজের রুটিন, খাওয়াদাওয়ার রুটিন ঠিক রাখা।
৪. সব নেশাজাতীয় বদভ্যাস থেকে দূরে থাকা।
৫. সারা দিনে একান্ত নিজের জন্য কিছুটা সময় রাখা। যখন চাইলে আপনি যোগব্যায়াম, মেডিটেশন করতে পারেন।
৬. ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে প্রতিবার ইনসুলিন নেওয়ার পূর্বে ব্লাড সুগার চেক করে নেওয়া।
তবে, মাথায় রাখবেন ব্ল্যাকআউট হলে তা অগ্রাহ্য করা যাবে না। প্রয়োজনে দ্রুত একজন ভালো ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। কিছু হয়নি ভেবে ছেড়ে দেওয়া আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল হতে পারে। কারণ, এটি কোনো গুরুতর রোগের পূর্বলক্ষণও হতে পারে।
এস